মার্কিন সেনেটে ‘মেটা’-র অধিপতি মার্ক জুকেরবার্গকে একটি ভীষণই অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খোলার অনতিবিলম্বেই ১৫-অনুর্ধ্ব মেয়েরা ‘আনওয়ান্টেড ন্যুডিটি’ বা অপ্রত্যাশিত নগ্নতার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। কোনও দুষ্টচক্র নিশ্চয় সক্রিয়। এ ব্যাপারে জুকেরবার্গের কোম্পানি কী ভাবছে। জুকেরবার্গ বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললে প্রশ্নকর্তা সেনেটর ক্ষুণ্ণ হন। তিনি বলেন, মার্কিন মুলুকে এমন ‘আনওয়ান্টেড ন্যুডিটি’-র চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়া কিশোরী মেয়েদের মা-বাবাদের কাছে কি এইটুকু উত্তর যথেষ্ট বলে মনে করা যেতে পারে?
বলা বাহুল্য, এই প্রতিকূল পরিবেশে মার্ক জুকেরবার্গ আর কথা বাড়াননি। সেখানে
উপস্থিত হতভাগ্য মা-বাবাদের উদ্দেশে ক্ষমাপ্রার্থনা করে নেন। অভিনেতা অক্ষয় কুমারের মেয়ের সঙ্গেও এ ধরনের কুরুচিকর ঘটনা ঘটেছিল বলে স্বয়ং অভিনেতা জানিয়েছেন। ‘পাবজি’-র মতো ভিডিও গেম যেমন প্রাণহন্তারক, তেমনই সমাজমাধ্যমে উলোঝুলো যৌনতার হাতছানি হয়ে উঠতে পারে জীবননাশী।
কোলিন ফার্নান্ডেজ জার্মানির প্রথম শ্রেণির টিভি স্টার। গত মার্চে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর প্রাক্তন স্বামী ক্রিস্টিয়ান উলমেন, নামজাদা সঞ্চালক ও প্রোডিউসার, অনলাইনে এমন কিছু ‘ছবি’ ছড়িয়েছেন, যা আপাতভাবে কোলিনের হলেও আদতে ‘এআই’ ব্যবহার করে তৈরি করা।
প্রাক্তন স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতে চেয়ে যৌনতাকে হাতিয়ার করে স্বামী, আর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সেই মহিলার ‘এআই জেনারেটেড’ পর্নোগ্রাফিক ছবি। এরপর নীতির তালপুকুরে ঘটি ডুবতে আর কী বাকি রইল! সমাজমাধ্যমে কিশোরী মেয়েদের সঙ্গে নগ্নতার ছলনা করার নেপথ্যে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য প্রকট হয়ে ওঠে, মোটা টাকার জরিমানা দিয়ে অনেক সময় সেই খপ্পর থেকে হয়তো-বা ছাড়ও মেলে। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক একটি লোক যদি সজ্ঞানে এমন আচরণ করে প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে, তবে তাকে অপরাধমনস্ক ছাড়া কি বলতে পারি আমরা?
ঘটনাটি খুব নতুন নয়। কোলিন ফার্নান্ডেজ জার্মানির প্রথম শ্রেণির টিভি স্টার। তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। গত মার্চে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর প্রাক্তন স্বামী ক্রিস্টিয়ান উলমেন, নামজাদা সঞ্চালক ও প্রোডিউসার, অনলাইনে এমন কিছু ‘ছবি’ ছড়িয়েছেন, যা আপাতভাবে কোলিনের হলেও আদতে ‘এআই’ ব্যবহার করে তৈরি করা। প্রতিটি ছবিই অশ্লীল ও যৌনোদ্দীপক। কোলিনের জন-ভাবমূর্তি তছনছ করতেই এমন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
‘বিবিসি’ থেকে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ কোথায় না এ ঘটনায় হইচই পড়েনি। জার্মানির রাজপথে মেয়েরা নেমে এসে আন্দোলন করেছিলেন কোলিনের সপক্ষে। সম্প্রতি, এই কেসে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। ভাবা হচ্ছে, এমন আইন কি জার্মানিতে লাগু করা যায় যেখানে মেয়েদের অশ্লীল ও অসম্মানজনক ছবি যদি ছড়িয়ে দেওয়া হয় সমাজমাধ্যমে, তাহলে সেই কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ বলে পরিগণিত করা হবে?
প্রশ্নটি ভাবায়। ডিজিটাল পরিসরে নারীর যৌনতা যেন খোলামকুচি। কখনও তা পণ্য, কখনও প্রলোভিত ও প্ররোচিত করার শলাকা। সমাজমাধ্যমে কিশোরী মেয়েরা অনাবশ্যক যৌনতার ঘেরাটোপে আটকে পড়ুক, সেটি যেমন কাম্য নয়; তেমনই বদলা নিতে চেয়ে চেনা নারীকে যৌনবস্তু করে তোলার মাধ্যম যেন না হয় সমাজমাধ্যম।
সর্বশেষ খবর
