শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে নামেনি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবুও পুরুলিয়ার পাহাড়ি এলাকায় বরফ! টানা ৫ দিন ধরে এই ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে খবর। আর তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। তাহলে কি পুরুলিয়ার সঙ্গে জুড়ে গেল কাশ্মীর, সিকিম বা দার্জিলিংয়ের নাম? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? তাঁদের মতে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রি-র উপরে ও ৫ ডিগ্রির নিচে থাকলেও তুষার জমে। তাই এটা বরফ বা তুষারপাত নয়। ঘাস ভরা মাঠ, খড়ের গাদা, মাটিতে পড়ে থাকা বাঁশ, লোহার পাইপ এমনকী চারচাকা গাড়ির উপরেও জমে যাচ্ছে সাদা আস্তরণ। যা আদতে ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’ বা ‘ভূমি তুহিন’। পাথুরে পুরুলিয়ায় এই ঘটনা দেখা গিয়েছিল ৬ বছর আগে বেগুনকোদরে।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এই একই রকম তুষার পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। আর এই মরশুমে বুধবার থেকে ওই ঘটনা ফের দেখা যাচ্ছে। চলতি মরশুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একেবারে ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে জোড়া রেকর্ড ভেঙেছে এই মালভূমির জেলা। দার্জিলিংকে যেন প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে। গত বুধবার থেকে শনিবার চার দিন যখন পুরুলিয়া ৪-র ঘরে ছিল তখন দার্জিলিং-৩র ঘরে। রবিবার পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন ছিল ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। দার্জিলিং-এ ৩.৬। আর কালিম্পং ও গ্যাংটককে তো প্রতিদিনই হারিয়ে দিচ্ছে এই জেলা। কৃষি দপ্তরের পরিমাপ অনুযায়ী অযোধ্যা পাহাড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি। রবিবার সকাল হতেই অযোধ্যা হিলটপের সীতাকুণ্ড এলাকায় ঘাসে তুষারের সাদা আস্তরণ দেখা যায়। লাগোয়া রিসর্টের একটি গাড়ির ছাদ সাদা চাদরে ঢাকা।
আরও পড়ুন:

কখনও বান্দোয়ানের ডাঙা গ্রামে, আবার কখনও ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার রাস্তায় সত্যমেলা এলাকায় এই সাদা আস্তরণ দেখা গিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা বিমল কুইরি ও ঠাকুরদাস মাহাতো বলেন, “শীত উপভোগ করছি। খড়ের গাদায় একেবারে বরফের আস্তরণ। পুরুলিয়া থেকেই বরফ দর্শন হয়ে গেল।” এই তুষার জমার ছবি এবারও বেগুনকোদরে দেখা যায় গত বুধবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সুপুরডি গ্রামে, মুরগুমা যাওয়ার রাস্তায়। পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ধ্রবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ওই সাদা আস্তরণকে বরফ বা তুষারপাত বলা যাবে না। বলা যায় তুষার জমছে। সাধারণত, তাপমাত্রা শূন্যের উপরে তবে ৫ ডিগ্রির নিচে তুষার জমে। এটা শুধু পুরুলিয়ায় নয়, যে কোনও জায়গাতেই হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এজন্য যেমন মেঘমুক্ত আকাশ, দূষণমুক্ত থাকতে হবে। তেমনই বাতাস থাকতে হবে একেবারে স্থির। কয়েক দিন পুরুলিয়ার আবহাওয়াটা ঠিক এরকমই। তাই তুষার জমার ছবি দেখা যাচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
আড়শার নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্মেন্ট স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক সঞ্জয়কুমার মিশ্র বলেন, “বরফের পাতলা আবরণ অনেক সময় ভূপৃষ্ঠে মাটি বা ঘাসের উপর সরাসরি তৈরি হতে পারে। যখন শিশিরাঙ্ক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকে। অর্থাৎ বাতাসে মজুত জলীয়বাষ্প তখন ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত না হয়ে বরফকণায় পরিণত হয়।” কৃষিদপ্তরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক সোমনাথ মহাপাত্র বলেন, “পুরুলিয়ার শীত এবার অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। চলতি মরশুমেই জোড়া রেকর্ড ভেঙেছে। পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কখনই ৪ ডিগ্রিতে নামেনি, এবারই প্রথম।”
সর্বশেষ খবর
