তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পাহাড় কেটে যে সমস্ত প্রকল্প রাজ্য সরকার হাতে নিয়েছে তা বাতিল হবে। বুধবার পুরুলিয়া শহরে সাংসদ কার্যালয় থেকে এই কথা জানিয়ে দেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর সাফ কথা, ” মুখ্যমন্ত্রী বলে গিয়েছেন পাহাড় ও গাছ কাটা যাবে না। আমরা যখন বিরোধীতে ছিলাম তখন এই দুই-র বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। কোথাও এমন পাহাড় কাটা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুটেজ পেলে অ্যাকশন হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
সম্প্রতি রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও লিজ পাওয়া সংস্থা কাজ বন্ধ করেনি। ফলে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। এদিকে লিজ পাওয়া ওই সংস্থা জানিয়েছে, পাহাড় কাটা বন্ধের প্রেক্ষিতে রাজ্যের কাছ থেকে তারা কোনও নির্দেশিকা পাননি। ফলে তাদের কাজ চলবে।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন ধরেই গ্রানাইট হাবের নামে জেলার রঘুনাথপুর ১ ব্লকের বেড়োর চন্ডী পাহাড়ে ক্রাশার তৈরি করে পাহাড় কাটা চলছে। সেই পাহাড় কেটে ওই ক্রাশারে পাথরের রূপ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও লিজ পাওয়া সংস্থা কাজ বন্ধ করেনি। ফলে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। এদিকে লিজ পাওয়া ওই সংস্থা জানিয়েছে, পাহাড় কাটা বন্ধের প্রেক্ষিতে রাজ্যের কাছ থেকে তারা কোনও নির্দেশিকা পাননি। ফলে তাদের কাজ চলবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় একটি সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি ও প্রশাসনিক বৈঠক সেরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, পাহাড় ও গাছ কাটা যাবে না। এই বিষয়ে কোনও নিলাম হবে না। প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পাহাড় ও গাছে কেউ হাত দেবেন না। কিন্তু তৃণমূলের আমলে হওয়া প্রকল্প গুলি কী হবে, সেই ব্যাপারে রাজ্যের কোন নির্দেশিকা নেই। আর তাকে সামনে রেখে এই জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় বেড়োর চণ্ডী পাহাড় ছাড়াও হুড়ার কলাবনির কাছে সিন্দুরপুরে পাহাড় কাটা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর পুরুলিয়ার সাংসদও বলেছিলেন পাহাড় ও গাছ কাটা যাবে না। কিন্তু তিনি এদিন একেবারে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, তৃণমূলের আমলে যদি এমন কোন প্রকল্প নেওয়া হয়ে থাকে তবে তা বাতিল হবে। এরপরেও জেলায় কোথাও পাহাড় বা গাছ কাটা হলে সাংসদ সেখানে যাবেন বলেও আশ্বাস দেন। সাংসদের এই বক্তব্যের পর চন্ডী পাহাড়ের আন্দোলনকারীরা ভীষণই খুশি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
