পহেলগাঁও হামলা: ধর্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন বাদুড়িয়ার শিক্ষক সাবির হোসেন‌

পহেলগাঁও হামলা: ধর্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন বাদুড়িয়ার শিক্ষক সাবির হোসেন‌

রাজ্য/STATE
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ম বলতে কবে মানুষ কেবল মানুষই বুঝবে, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। এই অবস্থায় আজকের পৃথিবী সাক্ষী হয়েছে পহেলগাঁওয়ের হাড়হিম জঙ্গি হানার। যেভাবে ধর্মপরিচয় জেনে হিন্দু পর্যটকদের মারা হয়েছে তাতে শিহরিত ভারত-সহ গোটা বিশ্ব। আর এই পরিস্থিতিতে ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করে ধর্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন বাদুড়িয়ার এক শিক্ষক।

বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সাবির হোসেন‌। স্বরূপনগর ব্লকের নির্মাণ আদর্শ বিদ্যাপীঠের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া তাঁর ভিডিও বার্তা থেকেই সকলে জানতে পারেন তিনি ধর্মত্যাগ করছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে তিনি বলেন, ”আমি বাদুড়িয়াতেও আগে দেখেছি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা। এছাড়া দেশে, বলতে গেলে সারা পৃথিবীতেই এই ধরনের ঘটনা দেখে আমি বীতশ্রদ্ধ। পহেলগাঁওয়ে যেভাবে ধর্ম দেখে দেখে মানুষকে খুন করা হয়েছে, তা দেখে আমি স্তম্ভিত। আমরা জানি যে, জঙ্গিদের কোনও ধর্ম হয় না। তারা নির্বিচারে সকলকে খুন করে। কিন্তু পহেলগাঁওয়ের ঘটনা দেখিয়ে দিয়ে গেল, জঙ্গিদেরও ধর্ম হয়। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি লজ্জিত। সেইজন্য এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি। তবে আমি কোনও ধর্মকে ছোট করছি না। বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি না। এটা একেবারেই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারও চাপে পড়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আমি নিইনি।” পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে ধর্মহীন বলে ঘোষিত করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন সাবির।

২৬ জনের রক্তে ভেসেছে ভূস্বর্গ। পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসছে ভারত। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উপর ‘কূটনৈতিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করেছে নয়াদিল্লি। সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করছে ভারত। এছাড়াও বন্ধ ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত। পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা হবে এবং বর্তমানে যেসব পাকিস্তানিরা ভারতে রয়েছেন তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভার‍ত ছাড়তে হবে। এছাড়াও ভারত এবং পাকিস্তান-দুই দেশের হাই কমিশন থেকেই সরিয়ে নেওয়া হবে সামরিক পরামর্শদাতাদের। এবার কি তাহলে সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে ভারত? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *