তিতাস পাল, জলপাইগুড়ি: ধনতেরাস (Dhanteras) উপলক্ষে জলপাইগুড়ি শহরে ঝাড়ু কেনার ব্যাপক উন্মাদনা চোখে পড়ল। দিনবাজার, মার্চেন্ট রোড, বয়েলখানা বাজার ও স্টেশন বাজারের মতো বিভিন্ন এলাকায় ঝাড়ুর দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এমনকি অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বহু ব্যবসায়ীও এদিন বাড়তি লাভের আশায় ঝাড়ু বিক্রি করতে বসে পড়েন। চাহিদা বাড়ার সুযোগে সাধারণ দিনের তুলনায় ঝাড়ুর দাম অনেকটাই বেশি রাখা হয়। সাধারণ সময়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া নারকেলের শলা বা ফুলঝাড়ু এদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবুও ক্রেতারা স্বচ্ছন্দ্যে তা কিনে বাড়ি ফেরেন। ঝাড়ুর পাশাপাশি নুন, গোটা ধনে, কড়ির সঙ্গে সোনা, রুপো, পিতল, তামা ও স্টিলের বাসনপত্রও বিক্রি হয়েছে।
তবে এই ধরনের কেনাকাটার সঙ্গে শাস্ত্রীয় রীতির আদৌ কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishwa Hindu Parishad) জলপাইগুড়ি জেলা সহ-সভাপতি কৃষেন্দু গুহ জানান, ধনতেরাস অর্থাৎ ধন ত্রয়োদশীর দিনটির সঙ্গে কেনাকাটার কোনও শাস্ত্রীয় যোগসূত্র নেই। পৌরাণিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, সমুদ্র মন্থনের সময় এই দিনে আয়ুর্বেদের প্রবক্তা ও দেবতাদের চিকিৎসক দেব ধন্বন্তরি অমৃত কলস নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শাস্ত্রমতে স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ এবং সুস্বাস্থ্যের কামনায় দেব ধন্বন্তরীর আরাধনাই এই তিথির মূল উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক সময়ে এই দিনটিতে ঝাড়ু বা নুন কেনার মতো রীতি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
