এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম যে অনুপ্রবেশ, সেটা ইতিমধ্যেই একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী। মোদি-শাহদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ইন্ধন প্রসঙ্গ। এবার ওই সমস্যার কথা উঠে এল কর্নাটক হাই কোর্টের এক পর্যবেক্ষণে। রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের পুলিশকে বেনজির আক্রমণে কর্নাটক হাই কোর্ট বলল, “দেশের সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে, এভাবে অনুপ্রবেশকারীদের তোষণ করবেন না।”
মূল মামলাটি এক চিকিৎসকের করা। ওই চিকিৎসকের দাবি, তিনি একজন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে পুলিশকে সাহায্য করেন। কিন্তু সেটার বদলে তাঁর প্রশংসা তো দূর-উলটে তাঁর বিরুদ্ধেই আইনবিরুদ্ধভাবে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। ওই চিকিৎসকের দাবি, মূলত তাঁর সাহায্যেই একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করেছিল বেঙ্গালুরুর পুলিশ। কিন্তু ওই অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে ফরেনার্স রিজিওনাল অফিসে জানানোর পরই তাঁর বিরুদ্ধে পালটা এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। সেটাও আবার ওই বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর করা হেনস্তার অভিযোগের ভিত্তিতে।
আরও পড়ুন:
ওই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, সকাল ১১.৩০ মিনিট নাগাদ বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফরেনার্স রিজিওনাল অফিসে জানান ওই চিকিৎসক। ঠিক তার ১৫ মিনিট পরে অর্থাৎ ১১.৪৫ মিনিটে ওই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন বলছেন, “এটা তো পরিষ্কার প্রতিহিংসা। ১৫ মিনিটের মধ্যে এফআইআর দায়ের কীভাবে সম্ভব।” আদালতের সাফ কথা, “ঠিক এই কারণেই এই বিদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে থেকে যাওয়ার সাহস পায়। এভাবে যদি সরকারই ওদের সাহায্য করে, তাহলে আর কী হবে।”
কর্নাটক হাই কোর্ট রীতিমতো কড়া ভাষায় সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে। আদালত বলছে, “যদি সিস্টেম এভাবে সাহায্য করে, তাহলে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা ইন্ধন পাবেই। এটা বিপজ্জনক প্রবণতা। ভুলে গেলে চলবে না, দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে।” বিচারপতি নাগপ্রসন্ন আক্ষেপের সুরে বলেন, “এভাবে যদি পুলিশ বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে… যত দ্রুত সম্ভব এই তোষণ বন্ধ হওয়া দরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
