চলতি বিশ্বকাপ ঘিরে এমনিতেই বিতর্ক তুঙ্গে। বিশেষ করে, আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ শেষে। এবার ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত করার দাবি তুলে ফেললেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন সদস্য! তবে নেপথ্যে মিশরের ‘ন্যায্য’ গোল-বাতিল ঘিরে বিতর্ক নয়। নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্লেয়ার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড নাটক।
বসনিয়ার বিরুদ্ধে ডিফেন্ডারকে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার বালোগান। তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেন রেফারি। নিয়ম অনুযায়ী পরের তিন ম্যাচ তাঁর নিষিদ্ধ থাকার কথা। অথচ মজার হল, আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি একই ফাউল করায়, তাঁকে কোনও কার্ডই দেখাননি রেফারি! যা নিয়ে সে সময় বিস্তর ঝামেলাও হয়।
আরও পড়ুন:
মোট পঁয়ত্রিশ জন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য যৌথ বিবৃতি পেশ করে বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন লালকার্ড তুলে দেওয়া লজ্জাজনক। পরিষ্কার দেখতে পেলাম, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কীভাবে ঝুঁকে গেল ফিফা ও তাদের প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো।”
অভিযোগ, বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে বালোগানকে মাঠে নামাতে ‘উদ্যোগী’ হন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি তাঁর অফিস থেকে ফোন যায় ফিফা প্রেসিডেন্টের কাছে! এবং যার পর সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বালোগানের লালকার্ড বাতিল করে দেয় ফিফা। শুধু তাই নয়, এটাও বলা হয় যে, বিশ্বকাপেই সে লাল কার্ড প্রযোজ্য হবে না। হবে, এক বছর পর!
যার পর সোজা ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে চাইছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। মোট পঁয়ত্রিশ জন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য যৌথ বিবৃতি পেশ করে বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন লালকার্ড তুলে দেওয়া লজ্জাজনক। পরিষ্কার দেখতে পেলাম, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কীভাবে ঝুঁকে গেল ফিফা ও তাদের প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো।” তাঁরা ঠিক করে ফেলেছেন, ফিফা এথিক্স কমিটির কাছে আবেদন জানানো হবে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য। তাঁর দু’টো জিনিস জানতে চান। এক, হোয়াইট হাউস থেকে ফিফা প্রেসিডেন্টের কাছে বালোগানের লাল কার্ড বাতিল নিয়ে সত্যিই ফোন গিয়েছিল কিনা। দুই, লাল কার্ড তুলে দিয়ে বিশ্বকাপের আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
