আইভিএফ করলেই যে সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কখনও প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়, কখনও একাধিকবার চিকিৎসার পর আসে কাঙ্ক্ষিত সুখবর। সেই কঠিন বাস্তবতার কথাই প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।
সম্প্রতি এক রিয়্যালিটি শোয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলতে গিয়ে ৩৮ বছরের অভিনেত্রী জানান, স্বামী ফাহাদ আহমেদের সঙ্গে বিয়ের আগে তিনি দু’বার আইভিএফ করিয়েছিলেন। দু’টি চেষ্টাই সফল হয়নি।
আরও পড়ুন:
স্বরার এই অভিজ্ঞতা ফের মনে করিয়ে দিল, আইভিএফ কোনও ‘একবারে নিশ্চিত’ চিকিৎসা নয়। একটি সাইকেল ব্যর্থ হওয়া মানেই সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
আরও পড়ুন:
আইভিএফ ব্যর্থ হয় কোথায়?
আইভিএফ-এর পুরো প্রক্রিয়াটি একাধিক ধাপে এগোয়। প্রথমে ওষুধের মাধ্যমে ডিম্বাণু তৈরির জন্য ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা হয়। এরপর ডিম্বাণু সংগ্রহ, শুক্রাণুর সঙ্গে নিষেক, ভ্রূণ তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত সেই ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার যে কোনও পর্যায়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডিম্বাণুর গুণমান, শুক্রাণুর সমস্যা, নিষেক না হওয়া, ভ্রূণের স্বাভাবিকভাবে বিকশিত না হওয়া বা ভ্রূণ জরায়ুতে ঠিকমতো স্থাপিত না হওয়া, বিভিন্ন কারণেই আইভিএফ ব্যর্থ হতে পারে।
আইভিএফ বিশেষজ্ঞদের মতে, আইভিএফ ব্যর্থ হলে সবার আগে জানতে হবে, কেন ব্যর্থ হল। শুধু আগের চিকিৎসাটাই আবার করে যাওয়ার বদলে আগের সাইকেলের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা জরুরি।
একবার ব্যর্থ মানেই আবারও ব্যর্থ?
না। একটি আইভিএফ সাইকেল ব্যর্থ হওয়া থেকে পরের সাইকেলের ফল নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং আগের সাইকেলের তথ্য চিকিৎসককে পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করতে সাহায্য করতে পারে।
কোথায় সমস্যা হয়েছে তার উপর নির্ভর করে ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করার ওষুধ বা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। প্রয়োজন হলে আরও মূল্যায়ন করা হতে পারে, অথবা সম্পূর্ণ অন্য কোনও চিকিৎসা-পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে ব্যর্থ আইভিএফ-এর পর একগুচ্ছ পরীক্ষা করানোই সমাধান নয়। প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন আলাদা। কোনও পরীক্ষা বা চিকিৎসার কার্যকারিতা কতটা প্রমাণিত, সেটিও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে বোঝা জরুরি।
চিকিৎসকদের কথায়, কোন বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাবিজ্ঞান, কোনটি এখনও অনিশ্চিত এবং কেন কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষা বা চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তা রোগীকে স্পষ্ট করে জানানো উচিত।

বয়সের সঙ্গে বদলায় সমীকরণ
আইভিএফ-এর সাফল্যে বয়স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। কিন্তু শুধু বয়স দেখেই আইভিএফ-এর ফলাফল সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
আইভিএফ বিশেষজ্ঞদের কথায়, ওভারিয়ান এজিং বা ডিম্বাশয়ের বয়সজনিত পরিবর্তন প্রত্যেক মহিলার ক্ষেত্রে একই গতিতে হয় না। ফলে কম বয়সেও কারও ওভারিয়ান রিজার্ভ বা ডিম্বাণুর গুণমান প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে। তাই বয়সের পাশাপাশি রোগীর সম্পূর্ণ ফার্টিলিটি হিস্ট্রি এবং আগের আইভিএফ সাইকেলের ফলাফলও বিবেচনায় রাখা হয়।
ব্যর্থতার দায় নিজের নয়
আইভিএফ ব্যর্থ হলে হতাশা, অপরাধবোধ, মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক চাপ, সবই একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এর দায় নিজের উপর চাপানো ঠিক নয়। একটি ব্যর্থ আইভিএফ সাইকেল মা হওয়ার ক্ষমতাকে নির্ধারণ করে না। বরং কী কারণে সাইকেলটি সফল হল না, তা বোঝার চেষ্টা করাই পরবর্তী পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরের চেষ্টার আগে চাই ‘কেন’-এর উত্তর
আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে তাই একটি ব্যর্থ সাইকেলের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ‘আবার কবে শুরু করব?’ নয়, বরং জানা দরকার ‘কেন সফল হল না?’ আগের সাইকেলের অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে চিকিৎসার পদ্ধতি বদলানো, প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা এবং রোগীকে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণ বোঝানোই গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরার দু’বার আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইভিএফ-এর গল্প সবসময় সাফল্যের সরল গল্প নয়। কারও ক্ষেত্রে প্রথম চেষ্টাতেই সুখবর আসে, কারও ক্ষেত্রে পথটা হয় দীর্ঘ। আর একটি ব্যর্থ সাইকেল দিয়ে সেই পথের শেষ লিখে ফেলা যায় না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
