রাজ্যে পালাবদের পরে দিকে দিকে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ন্যায়বিচার মিলছে না। বিচারের জন্য কান্না ‘বধির’দের কান পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না বলে এবার সমাজমাধ্যমে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, বিজেপির দুষ্কৃতীদের নৃশংস হামলায় মৃত্যু হয়েছে দলের দুই কর্মীর। তাঁরা হলেন, সপ্তগ্রামের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন শিকদার। মৃত দুজনেই দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিষেক জানিয়েছেন, শোকস্তব্ধ শহিদ পরিবারগুলির বর্তমানে একটাই প্রশ্ন, বিজেপির বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করা কি হিংসা, অত্যাচার ও মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানোর সমান?
এই বিষয়ে আরও খবর
দলের সমর্থক ও নেতাদের উপর এরকম অত্যাচারের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ, আদালত, বিজেপি নেতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন। এক্স হ্য়ান্ডলে তিনি লেখেন, তৃণমূল কর্মীদের উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, বিজেপি নেতারা পালাবদলের জন্য উৎসব করতে ব্যস্ত রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী বিদেশসফরের পরিকল্পনা করছেন, আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা থেকে পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। অভিষেক জানান, “এই লজ্জাজনক নীরবতার মধ্যেই সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিজেপির হিংসা, প্রতিহিংসা এবং চরম নৈরাজ্যের রাজনীতির শিকার হচ্ছেন।”
উল্লেখ্য, নদিয়া জেলার চাকদহ থানার সিলিন্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাই স্কুল পাড়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। মৃত ব্যক্তির নাম তপন সিকদার। পরিবারের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস করার জন্যই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এর জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় গোবিন্দ দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, সপ্তগ্রামে সোমনাথ আচার্যর মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তিনিও তৃণমূল সমর্থক ছিলেন বলে দাবি দলের নেতাদের। এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় এবার সমাজমাধ্যমে ফুঁসে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
