‘ড্রাই স্টেট’ তকমা ঘুচে যাবে বিহারের! এমনটাই খবর পাটলিপুত্রের অন্দরে কান পাতলে। সম্প্রতি একটি সংস্থার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মদের বিক্রি ফেরালে তা আখেরে বিহারের পক্ষেই মঙ্গলজনক। যে উদ্দেশ্য় নিয়ে মদের বিক্রি নিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যও পূর্ণ করা যায়নি বলেই ওই রিপোর্টের দাবি। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিহারে মদের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে? এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে চাপানউতোর।
গত সপ্তাহে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চের তরফে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয় ইন্ডিয়া পলিসি ফোরাম। সেখানে বলা হয়েছে, মদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মহিলাদের উপর নির্যাতনে রাশ টানা যায়নি। ২০১৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ঘোষণা করেছিলেন, মহিলাদের উপর হিংসা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে মদ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলিও সায় দেয় এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু ১০ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, ড্রাই স্টেট হলেও বিহারে মহিলাদের উপর অন্যায়ের ঘটনা কমেনি।
আরও পড়ুন:
এই রিপোর্ট পেশ হওয়ার পরেই নাকি সম্রাট চৌধুরির প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। মদ বিক্রি বন্ধ হওয়ার দরুণ রাজস্বের বড়সড় ঘাটতি রয়েছে। যদি আবারও রাজ্যে মদের বিক্রি বৈধ করা যায় তাহলে বিহারের রাজকোষ ভরবে। এই খবর ছড়াতেই সুর চড়িয়েছে লালুপ্রসাদ যাদবের দল। আরজেডির তোপ, মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারছে না বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। সেকারণেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে তারা। যদিও বিজেপি সরকার এখনই এই পথে হাঁটবে না বলেই সূত্রের খবর। তবে আগামী দিনে ‘ড্রাই স্টেট’ তকমা সরে যেতেই পারে বিহার থেকে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিহারে মদ ‘নিষিদ্ধ’ করে দেন নীতীশ কুমার। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে’ (‘এনএফএইচএস’)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বিহারে মদ্যপান ১.১% বেড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বেআইনিভাবে মদ পাচার করা হয়েছে বিহারে। রাজ্যের বাইরে থেকে চোরাচালান হয়ে আসা মদ অনেক বেশি দামে কিনতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিহারবাসী নিঃস্ব হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো ‘অবৈধ’ চোলাই তৈরির ভাটি গজিয়ে উঠেছে। সেই চোলাই খেয়ে মৃতের সংখ্যাও প্রচুর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
