ডিভাইড অ্যান্ড রুল! পাকিস্তানকে বহু খণ্ডে ভেঙে বিদ্রোহ দমনের নীল নকশা আসিম মুনিরের

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


চার প্রদেশে বিভক্ত পাকিস্তানের তিন প্রদেশই বর্তমানে তপ্ত কড়াই। বালোচ, টিটিপির পাশাপাশি স্বাধীন কাশ্মীরেও জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। অগ্নিগর্ভ এহেন পাকিস্তানকে সামাল দিতে এবার নয়া ছক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের। ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’-এর ধাঁচে পাকিস্তানের চার প্রদেশ পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তান প্রদেশকে ভেঙে ১২-১৫ ছোট প্রদেশ গড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অথবা ১৬০টি ছোট ছোট রাজ্য গড়ারও পরিকল্পনা রয়েছে মুনিরের।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনার আধিপত্য নতুন কিছু নয়। বর্তমানে সময়ে দেশটিতে অলিখিতভাবে সেনা শাসনই চলছে। আসিম মুনিরেরই পুতুল সরকার হিসেবে এখানে কাজ করেন শাহবাজ শরিফ। বর্তমান সময়ে গোটা পাকিস্তান বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আসিম মুনিরের সেনাবাহিনী। ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি সামলাতে মুনিরের পরিকল্পনা চারটি প্রদেশের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো। যার অর্থ সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী করা। বিদ্রোহের বিষয়টিকে আড়ালে রেখে মুনির ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এত বড় প্রদেশে প্রশাসনিক কাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন। যার জেরেই পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে ও ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

আরও পড়ুন:

মুনির ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এত বড় প্রদেশে প্রশাসনিক কাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন। যার জেরেই পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে ও ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ হল পাঞ্জাব। ১২.৮ কোটি মানুষের বাস এখানে। অর্থাৎ পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক পাঞ্জাবে বাস করে। অন্যদিকে বালোচিস্তান আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম প্রদেশ হলেও এর জনসংখ্যার ঘনত্ব কম। বালোচিস্তানে মাত্র ১.৫ কোটি মানুষ বাস করেন। মুনিরের দাবি অনুযায়ী, বড় প্রদেশ হওয়ার জেরে পাকিস্তানের গ্রামগুলোর অবস্থা খারাপ। সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সফর করে শহরে পৌঁছাতে হয়। তবে সেনাপ্রধান এই দাবি করলেও নেপথ্যে অন্য অঙ্ক দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

আসলে বালোচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া এই দুই প্রদেশে বিদ্রোহের জেরে নাজেহাল অবস্থা পাক সেনার। এর মধ্যে আবার বালচিস্তানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ অনেক কম। বালোচ বিদ্রোহীদের মারে পালানোর পথ পাচ্ছে না পাক সেনা। এই অবস্থায় মুনির চাইছেন ছোট ছোট খণ্ডে প্রদেশগুলিকে ভেঙে ফেলতে। তাতে শাসন চালাতে সুবিধা হবে। কেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়লে শাহবাজ শরিফের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে সেনা। বিদ্রোহী দুই প্রদেশ যত ছোট খণ্ডে বিভক্ত হবে বিদ্রোহে লাগাম পরাতে তত সুবিধা হবে। ঠিক এই ছকেই হাতের বাইরে চলে যাওয়া অঞ্চলগুলিকে সামাল দিতে চাইছে মুনিরের বাহিনী।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *