ডনবাসই ‘জিয়নকাঠি’, না পেলে হবে মৃত্যুদণ্ড! ক্ষমতা বাঁচাতে যুদ্ধই ভরসা পুতিনের

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


চার বছর ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গোটা বিশ্ব থেকে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ এলেও তা কানে তোলেননি রুশ প্রেসিডেন্ট। মরিয়া হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া পুতিন সম্পর্কে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। জানা যাচ্ছে, এই যুদ্ধে পুতিনের ‘জিয়নকাঠি’ এখন ইউক্রেনের ডনবাস। পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ না নিয়ে যদি যুদ্ধ থামানো হয়, সেক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন পুতিন। তা যদি হয় সেক্ষেত্রে ফাঁসিকাঠে ঝুলতে হতে পারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুতিন মনে করেন তাঁর প্রধান দাবিগুলি পূরণ না করে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করলে তা রাশিয়ার দুর্বলতা হিসেবে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে দেশের অন্দরে ক্ষমতাশালীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে উঠতে পারে। ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শেষ করলে তার পরিণতি কী হতে পারে সেই সংক্রান্ত এক আলোচনায় পুতিন একবার জানিয়েছিলেন, ‘ওরা আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবে।’ পুতিন মনে করেন, কোনওভাবে তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ হলে তাঁর পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। যার জেরেই যুদ্ধ শেষ করতে বড় কোনও চুক্তি এড়িয়ে চলছেন পুতিন।

আরও পড়ুন:

ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শেষ করলে তার পরিণতি কী হতে পারে সেই সংক্রান্ত এক আলোচনায় পুতিন একবার জানিয়েছিলেন, ‘ওরা আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবে।’

ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক, এই দুই অঞ্চল যৌথভাবে ডনবাস নামে পরিচিত। এর একটি বড় অংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। তবে এর ফলও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পুতিন। ৪ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। শক্তিশালী রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পুতিন এখন সাধারণ মানুষের ক্রোধের চেয়ে রাশিয়ার প্রভাবশালীদের নিয়ে বেশি চিন্তিত। এরা সেইসব ব্যক্তি যাদের হাতে রয়েছে অর্থ, অস্ত্র ও ক্ষমতার নাগাল। এই ক্ষমতাশালীরা এখন রাশিয়ার পূর্ণ বিজয় নয়, বরং কীভাবে সঠিক পথে যুদ্ধের অবসান হয় সেই রাস্তা খুঁজছেন। ৪ বছরের যুদ্ধে রাশিয়া কী অর্জন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এক প্রভাবশালীর উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্দরে এই ধারনা ক্রমস স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাজার কাপড় খুলে নেওয়া হচ্ছে।’ যার অর্থ, ক্ষমতার দুর্বলতা আর গোপন থাকছে না তা জনতার কাছে দৃশ্যমান। তা সত্ত্বেও এখনও প্রেসিডেন্ট আসনের উপর পুতিনের যথেষ্ট দখল রয়েছে। তবে বেশিদিন সেই দখল থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, রাশিয়া চায় ডনবাসের দখল। অন্যদিকে নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় মরিয়া হয়ে নেমেছে ইউক্রেন। ব্রিটেন-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে প্রতিরক্ষা সাহায্য। গোটা পরিস্থিতিতে যথেষ্ট চাপে পুতিন। রাশিয়ার ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে রাখতে যুদ্ধে সাফল্যের প্রমাণ দেখাতে হবে পুতিনকে। তার জন্য চাই পুরো ডনবাস। এ বিষয়ে ইউক্রেন-সহ গোটা বিশ্বকে পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তিচুক্তি তখনই হবে যখন ইউক্রেন রাশিয়া-অধিকৃত অঞ্চলের ওপর থেকে নিজেদের দাবি ত্যাগ করবে। এবং ওই অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ইউক্রেনের পক্ষে এই দাবি মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *