টিকে থাকার লড়াই

টিকে থাকার লড়াই

শিক্ষা
Spread the love


কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে এখনও বেঁচে রয়েছে। মৌসম বেনজির নুরের তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরার লগ্নে এই বার্তাটি দিয়েছেন রাহল গান্ধির ঘনিষ্ঠ জয়রাম রমেশ। কথাটি শুনতে যতটা ভালো, বাস্তবে ততটা কার্যকর কি না, সংশয় আছে। মৌসম এলেই বাংলায় কংগ্রেসের ভাগ্য ফিরবে, পরিস্থিতি একেবারেই তা নয়। তবুও লাগাতার হারের মাঝে বঙ্গীয় কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের কাছে নতুন স্বপ্ন তো বটে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আবার বলেছেন, মৌসমের ঘরে ফেরা শুধুমাত্র ট্রেলার। পিকচার এখনও বাকি।

অপরদিকে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে কংগ্রেসে আসা ভিক্টর জানিয়েছেন, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, বিধায়কের সঙ্গে তাঁর কথা চলছে। অর্থাৎ যে তৃণমূল একদা কংগ্রেসের ঘর ভেঙে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল, সেই তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে ফের ইমারত গড়ার স্বপ্ন দেখছে হাত শিবির। ’৭৭ সালে রাজ্যপাট হারানোর পর থেকে কংগ্রেসে যে শনির দশা শুরু হয়েছিল, তাতে এখনও লাগাম পরেনি। এই অবস্থায় মৌসমের হাত শিবিরে ফিরে আসা এবং তাঁর পথ ধরে আরও কয়েকজন তৃণমূল জনপ্রতিনিধির কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জল্পনায় পশ্চিমবঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন দলটি আহ্লাদিত হচ্ছে ঠিকই, তাতে রাজ্যের কিছু পকেটের বাইরে কংগ্রেসের বিশেষ কোনও লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কংগ্রেস সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়ে তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে পারে বটে। কিন্তু তাতে মেরুকরণের লাভের গুড় বিজেপির দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বিস্তর। কংগ্রেস এখনও তৃণমূলের বিকল্প শক্তি হতে পারেনি। কয়েকজনকে ভাঙালেই কংগ্রেসের পক্ষে রাতারাতি তৃণমূলের বিকল্প শক্তি হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ভিত মজবুত না হলে কোনও বহুতলই টেকে না। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সর্বস্তরের সংগঠন ক্ষয়রোগে আক্রান্ত। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের বাইরে সেই অর্থে প্রভাব-প্রতিপত্তি কিছু নেই।

মৌসম দলবদলের সময় বার্তা দিয়েছেন, তিনি গনি খান চৌধুরীর পরিবারের অংশ। তাই পারিবারিক কারণেই তিনি পুরোনো দলে ফিরেছেন। কিন্তু গনি খানের পরিবারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি সাত বছর আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, সেই উত্তর দেননি। এবছরই রাজ্যসভা সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ ফুরোনোর কথা। তার আগে তিনি উপরাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামীদিনে দিল্লি নয়, তিনি বাংলার বিশেষ করে মালদার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

গনি পরিবারের আরেক সদস্য তথা মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী নিজের এলাকায় যথেষ্ট পরিচিত। ইশা এবং মৌসমের পক্ষে মালদা জেলায় কংগ্রেসের হাত শক্ত করা কিছুটা সহজ হলেও রাজ্যের বাকি এলাকায় একেবারেই তা নয়। নিজেদের পকেটের বাইরে কংগ্রেসের পক্ষে একক ক্ষমতায় তৃণমূল ও বিজেপির মোকাবিলা করা কঠিন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দলের হাইকমান্ডের বিষয়টি অজানা নয়। তবে সাংবাদিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রদেশ সভাপতি এখন বিভিন্ন ইস্যুতে দলকে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু মৌসমের দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের কিছু নেতার হাবভাবে মনে হচ্ছে তাঁদের সুদিন ফেরা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দলে দলে তৃণমূল ও অন্য দল থেকে অনেকে যেন কংগ্রেসে নাম লেখানোর জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের না জানার কথা নয় যে, এভাবে কিছু ওপরতলার নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের দলে নিলেই সংগঠন পোক্ত হয় না। তার জন্য একেবারে নীচুস্তর থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা প্রয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের আন্দোলনে সর্বস্তরের ভোটারদের মধ্যে প্রভাব পড়ার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। অধীররঞ্জন চৌধুরী বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নির্যাতন, হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন। কিন্তু বাংলায় গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে খুব মনোযোগী নন তিনি কিংবা প্রদেশ নেতৃত্ব। আবার এসআইআর-এ সাধারণ মানুষের হেনস্তার প্রতিবাদে কংগ্রেসের সীমাবদ্ধতা প্রকট।

The put up টিকে থাকার লড়াই appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *