ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে ছবির শুটিংয়ে ‘উত্তম স্মৃতি’, রাজবাড়ির দরজা খোলার আর্জি অনুরাগীদের

রাজ্য/STATE
Spread the love


মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। সত্তরের দশকে একাধিক ছবির শুটিংয়ের সূত্রে বারবার এই রাজবাড়িতে এসেছিলেন তিনি। শুধু শুটিং নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও রাজবাড়িতে এসেছেন মহানায়ক। ফলে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাসাদ আজও উত্তম-অনুরাগীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ঝাড়গ্রামে এসে রাজবাড়ি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রাজবাড়ির ভিতরে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ। তাই অন্তত নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠছে।

ঝাড়গ্রাম রাজ পরিবারের সদস্য জয়দীপ মল্লদেব বলেন, “উত্তমকুমার শুধু শুটিংয়ের জন্য নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও বহুবার এসেছেন। সুপ্রিয়া দেবীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি তাঁর খুব প্রিয় জায়গা ছিল।” মহানায়কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই দিনগুলির স্মৃতিও এখনও টাটকা জয়দীপের মনে। তাঁর কথায়, শুটিংয়ের সময় রাজবাড়ির ডিলাক্স ঘরেই থাকতেন উত্তমকুমার। তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য সাধারণ মানুষের উন্মাদনাও ছিল তুঙ্গে। একবার উত্তমকুমারকে দেখতে পাঁচিল টপকাতে গিয়ে সারদাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা পড়ে পা ভেঙেছিলেন। বিপুল ভিড় সামলাতে তৎকালীন রাজা নরসিংহ মল্লদেব নিজে উদ্যোগী হয়ে উত্তমকুমারকে বাইরে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করিয়েছিলেন। তাঁকে সামনে পেয়েই শান্ত হয়ে গিয়েছিল উত্তেজিত জনতা।

আরও পড়ুন:

Jhargram-RajbariJhargram-Rajbari
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। ফাইল ছবি

বর্তমানে নিরাপত্তার কারণেই রাজবাড়ির ভিতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। জয়দীপ জানান, অতীতে মন্দিরের দেওয়ালে অশালীন লেখা, অতিথিদের বিরক্ত করা এবং মন্দির থেকে পাথরের হনুমান মূর্তি চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ না রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাজবাড়ির বাইরের অংশ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। জয়দীপ বলেন, “দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। তাঁদের যাতে হতাশ হয়ে ফিরতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছি। বিধায়কও এই বিষয়ে অনুরোধ করেছেন।” তাঁর প্রস্তাব, মূল অংশের আগে একটি গেট করে সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ার বা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি প্রশাসনের কাছেও জানানো হবে। উত্তমকুমারের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দরজা তাই নিরাপত্তার শর্ত মেনে ফের কিছুটা খুলে দেওয়ার অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *