দু’টো বড় ইনিংসের সৌজন্যে রায়পুরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৫.২ ওভারে জয়ের রান তুলে নিয়েছে ভারত। ২৮ বল বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২০৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ‘মেন ইন ব্লু’। কোন ‘মন্ত্রে’ এল এমন দুর্ধর্ষ জয়? ম্যাচের পর জানালেন জয়ের দুই কাণ্ডারি সূর্যকুমার যাদব এবং ঈশান কিষান।
আরও পড়ুন:
টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেন, “আমি জানি না দুপুরে কী খেয়েছিল ঈশান? ওকে যেভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে দেখলাম, তা অনেক দিন দেখিনি। ৬ রানে আমাদের দু’টো উইকেট পড়ে গিয়েছিল। তারপরেও যেভাবে ব্যাট করল, তা অবিশ্বাস্য। পাওয়ারপ্লেতে আমাদের রান উঠল ৬০। আমরা সব সময় চাই ব্যাটাররা যাতে খোলা মনে খেলতে পারে। পাওয়ারপ্লেতে ও আমাকে স্ট্রাইকই দেয়নি। ও আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল।”
১৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাফসেঞ্চুরি করলেন তিনি। ব্যক্তিগত মাইলফলকের পর মাঠ ছুঁয়ে প্রণামও করলেন। এরপর অনেক খোলা মনে খেললেন তিনি। ট্রেড মার্ক শটও খেললেন। নিজের ফর্ম নিয়ে স্কাই বললেন, “আমি আগেও বলেছি, নেটে ভালো ব্যাটিং করছি। গত দু-তিন সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। মন ফুরফুরে আছে। খেলাটাকেও উপভোগ করেছি। মনেপ্রাণে চাইছিলাম বড় রান আসুক। যা এই ম্যাচে পেলাম।” বোলারদের প্রশংসা করে তাঁর সংযোজন, “একটা সময় ওদের রান ছিল ২ উইকেটে ১১০। শিশিরও পড়ছিল। তখন মনে হচ্ছিল, ২৩০ রান করে ফেলবে ওরা। কিন্তু আমাদের বোলাররা মাঝের ওভারে উইকেট নিল। সেই কারণেই ওদের ২০৮ রানে আটকে রাখা গিয়েছে। তাই ওদের তো কৃতিত্ব দিতেই হবে।” উল্লেখ্য, ৩৭ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছেন সূর্য।
নিজের ফর্ম নিয়ে স্কাই বললেন, “আমি আগেও বলেছি, নেটে ভালো ব্যাটিং করছি। গত দু-তিন সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। মন ফুরফুরে আছে। খেলাটাকেও উপভোগ করেছি। মনেপ্রাণে চাইছিলাম বড় রান আসুক। যা এই ম্যাচে পেলাম।”
অন্যদিকে, দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে চেনা মেজাজে ফিরলেন ঈশান। ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ঈশান। শেষ পর্যন্ত ইশ সোধির বলে ছয় মারতে গিয়ে ৩২ বলে ৭৬ রানে সাজঘরে ফেরেন ঈশান। আউটের আগে ১১টা চার এবং চারটে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এমন দুর্ধর্ষ ইনিংসের পর ঈশান বলছেন, “বল দেখে খেলেছি। বেশি ঝুঁকি নিইনি। ক্রস ব্যাটে খেলতে যাইনি। হেডস্পেস ঠিক রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ঠিকই করে নিয়েছিলাম, মারার বল পেলে ছাড়ব না। শিশির একটা ফ্যাক্টর ছিল জানতাম। তবে নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পাওয়ারপ্লেতে যতটা সম্ভব রান করতে চাইছিলাম। কারণ ২০৮ রান তাড়া করার সময় আপনাকে পাওয়ারপ্লেতে বেশি রান করতেই হবে। নিজের উপর ভরসা রেখেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে।”
ঈশান বলছেন, “পাওয়ারপ্লেতে যতটা সম্ভব রান করতে চাইছিলাম। কারণ ২০৮ রান তাড়া করার সময় আপনাকে পাওয়ারপ্লেতে বেশি রান করতেই হবে। নিজের উপর ভরসা রেখেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে।”
আরও পড়ুন:
বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনালে ঝাড়খণ্ডকে জিতিয়ে ‘বঞ্চিত’ তকমা ঘোচানোর মরিয়া চেষ্টা একটা করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ৪৯ বলে ১০১ রানের ইনিংসে কার্যত উড়ে গিয়েছিল হরিয়ানা। ১০ ম্যাচে ৫১৭ রান করে তিনিই শীর্ষ রান সংগ্রাহক। সেই তিনি ভারতীয় দলে ফিরে সুপারহিট। “নিজের ইচ্ছায় ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি। নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি। রান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজের রাজ্যকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। ভালো খেলার ফল হাতেনাতে পেয়েছি।” এভাবেই ঘরোয়া ক্রিকেটকে কৃতিত্ব দিলেন একদা বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া ২৭ বছর বয়সি ক্রিকেটার।
সর্বশেষ খবর
