শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: ভুটানের জলে ক্ষতিগ্রস্ত ডুয়ার্সের জঙ্গলও। আগামীদিনে জঙ্গলে আরও বেশি সমস্যা বাড়াতে পারে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলঢাকা, তোর্সা নদী। বুধবার জলপাইগুড়িতে পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির বৈঠকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বনাধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান তথা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালও।
গত ৫ অক্টোবর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ডুয়ার্সে। জনজীবনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন ও বন্যপ্রাণীর জীবন। একাধিক বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একাধিক সংখ্যায় প্রাণীর প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের পথ ধরে। প্রাণীদের আবাসভূমির পাশাপাশি খাদ্যভাণ্ডার ঘাস বন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিধায়ক তথা পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত দশটি গন্ডারকে লোকালয় থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। আরও একটি গন্ডারকে জঙ্গলে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। জলদাপাড়ায় ঘাস জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানাদারি বেড়েছে। যা এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদপ্তরের। এদিন বন বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।
বিধায়ক জানান, তুলনামূলকভাবে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে সমস্যা কিছুটা কম। এখানেও একরের পর একর ঘাস জমি বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ঘাসজমি পুনরুদ্ধারের একটা প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পাহাড়ি নদী এখানেও ভয়ের কারণ। যদিও তুলনামূলক ভাবে গরুমারা সংলগ্ন লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানাদারির ঘটনা কম। এদিনের আলোচনায় কোন জঙ্গলে বন্যার পরবর্তী এই সময়ে কী সমস্যা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা থেকে বন ও বন্যপ্রাণকে সুরক্ষিত রাখতে কী পদক্ষেপ করা দরকার, এই নিয়ে আলোচনা হয়। বিধায়ক তথা পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল জানান, বিস্তারিত এই রিপোর্ট স্পিকারের নজরে আনবেন তিনি।
