দীর্ঘ ১৫ বছরের শূন্যতায় কাল হলো। রাজ্যে পালাবদলে অতীতের ঘাঁটি এলাকার কাছাকাছি ফিরে এসেও সেই আগের জনভিত্তি মেলেনি। তাই জঙ্গলমহলের শূন্যস্থান পূরণ করতে না পেরে শহরমুখী হতেই ৪০ বছরের জঙ্গল যুদ্ধের যবনিকা পতন হলো। বনমহলে শেষ হলো ‘মাওবাদ’ নামে এক অধ্যায়। জঙ্গলমহলের গ্রাম্য কথায় ‘বনপার্টি’।
২০১১ সালে মাওবাদী নেতা কিষাণজির মৃত্যুর পর জনভিত্তি হারিয়ে ঝাড়খণ্ডে আশ্রয় নেওয়ার পর জঙ্গলমহল কার্যত সংগঠন শূন্য হয়ে যায়। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম। তারপর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সরাইকেলা-খরসোওয়ার কুঁচাইয়ে কার্যকলাপ। এই এলাকাটি ঝাড়খণ্ডের ত্রিসীমানা হওয়ায় মাও কার্যকলাপের অনুকূল ছিল আকাশের।
আরও পড়ুন:
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মাওবাদমুক্ত ভারত ঘোষণার পরেও রাষ্ট্রের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ৬৪ বছরের বৃদ্ধ আকাশ। তিনি সম্প্রতি মনোজ নাম নিয়ে কাজ করছিলেন বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায়। সেই ২০১১ সাল। মাওবাদী নেতা কিষাণজির মৃত্যুর পর জনভিত্তি হারিয়ে ঝাড়খণ্ডে আশ্রয় নেওয়ার পর জঙ্গলমহল কার্যত সংগঠন শূন্য হয়ে যায়। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম। তারপর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সরাইকেলা-খরসোওয়ার কুঁচাইয়ে কার্যকলাপ। এই এলাকাটি ঝাড়খণ্ডের ত্রিসীমানা হওয়ায় মাও কার্যকলাপের অনুকূল ছিল আকাশের।
আরও পড়ুন:

একদিকে পূর্ব সিংভূম, অন্যদিকে খুঁটি। সেইসঙ্গে সরাইকেলা-খরসোওয়া। কিন্তু সাংগঠনিক স্ট্র্যাটেজিতে ঠিকানা বদল করে চলে যেতে হয় প্রায় ৭০০ পাহাড় ঘেরা ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা। যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক জঙ্গল যুদ্ধের পর শুরু হয় ‘অপারেশন কাগার’। এই সময়ই যৌথ বাহিনীর গুলিতে একের পর এক মাওবাদী নেতা-নেত্রীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার, আত্মসমর্পণে সরাইকেলার ওই ত্রিসীমানা হয়েই ঝাড়খণ্ডের দলমা ও বাংলামুখী হয় মাও বঙ্গ ব্রিগেড আকাশের মাত্র ৯ জনের স্কোয়াড। নতুন করে সংগঠন সাজানোর কৌশল নিতে গিয়েই একসঙ্গে তিনজনের গ্রেপ্তারির ফলে ধাক্কা খেতে হয়। জনভিত্তি না থাকা, অর্থবল কমে আসা, নেটওয়ার্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়
আর ৬ জনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি বৃদ্ধ আকাশ। আগস্টের মাঝামাঝিতে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।এনিয়ে এপিডিআরের সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ‘‘অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ একজন রাজনৈতিক নেতা। তাঁকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে।”
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার উত্তর ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা আকাশ। গড়বেতা কলেজে অঙ্ক অনার্স নিয়ে পড়ার সময় থেকে অতি বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। ছাত্র সংগঠনের কাজ করার মধ্যেই জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর হাত ধরে জঙ্গল জীবন শুরু হয় তাঁর। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের ওড়িশার সীমানা ডুমুরিয়া, গুড়াবান্ধায় কাজ চলে তাঁর। সেই সময় ২০০৩ সাল নাগাদ ওই এলাকায় গ্রামবাসীদের লাঙো আন্দোলনে জনযুদ্ধ গোষ্ঠী কোণঠাসা হয়ে গেলেও আকাশের ক্ষুরধার বুদ্ধিতে তা মোকাবিলা করেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার উত্তর ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা আকাশ। গড়বেতা কলেজে অঙ্ক অনার্স নিয়ে পড়ার সময় থেকে অতি বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। ছাত্র সংগঠনের কাজ করার মধ্যেই জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর হাত ধরে জঙ্গল জীবন শুরু হয় তাঁর। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের ওড়িশার সীমানা ডুমুরিয়া, গুড়াবান্ধায় কাজ চলে তাঁর। সেই সময় ২০০৩ সাল নাগাদ ওই এলাকায় গ্রামবাসীদের লাঙো আন্দোলনে জনযুদ্ধ গোষ্ঠী কোণঠাসা হয়ে গেলেও আকাশের ক্ষুরধার বুদ্ধিতে তা মোকাবিলা করেন। এরপরেই ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) গঠন হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব বর্তায় পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় এলাকায়। সেখান থেকে আবার আকাশের পুরনো কর্মস্থল ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের ডুমুরিয়ায়। সেই সময় ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ এলাকাতেও তাঁকে কাজ করতে হয়। পার্টি দায়িত্ব দেয় বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত আঞ্চলিক কমিটির।
তারপর সিপিআই (মাওবাদী) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তৃতীয় সম্পাদক তিনি। ২০১০ সালে ওই সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর কিষাণজির নির্দেশ অনুযায়ী ঘাঁটি এলাকার লালগড়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। কিষানজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে পার্টি কোণঠাসা হয়ে যায়। এরপর পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোর বার্ষিক পর্যালোচনায় আকাশকে ভর্ৎসনা করা হয়। তিনি রাজ্য সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও বাংলার ইনচার্জ পদে বসানো হয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কিশোর ওরফে সব্যসাচী গোস্বামীকে।
একইভাবে তাঁকে বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত আঞ্চলিক কমিটিরও দেখভাল করার কথা বলা হয়। তবে সংগঠনে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ পান আকাশ। অমিত শাহের মাওবাদী মুক্ত ভারতের ঘোষণার পর ২ কোটির বেশি টাকার মাথার দামের এই বৃদ্ধ ছিলেন সিপিআই(মাওবাদী)র একমাত্র জীবিত সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, যিনি মাত্র ৯ জনকে নিয়েই মাওবাদী বঙ্গ ব্রিগেডের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারিতে শেষ হয়ে গেল এতদিনের জঙ্গলযুদ্ধ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
