ছেলেদের গালিগালাজে আপত্তি নেই, মেয়েরা বললেই সমস্যা কেন? মোদিকে প্রশ্ন রাহুলের, সঙ্গী বিতর্ক

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


নারীর স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে ফের সরব কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পুণেতে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি মনুস্মৃতিতে নারীর অধীনতা সংক্রান্ত ধারণার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও নারী তাঁর বাবা, স্বামী বা অন্য কোনও পুরুষের পরিচয়ের অধীন নন; প্রত্যেক নারী নিজের জীবনের মালিক নিজেই।

আরও পড়ুন:

রাহুল বলেন, নারীদের শুধুমাত্র কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচিত করা হলে তাঁদের স্বতন্ত্র সত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খাটো করা হয়। তাঁর মতে, ভারতের নারীদের নিজেদের জীবন, সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। তিনি মনুস্মৃতির নারী-সংক্রান্ত কিছু বিধানের উল্লেখ করে বলেন, সেখানে নারীর স্বাধীনতার পরিবর্তে পুরুষের অধীনতার যে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, তা বর্তমান ভারতের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু মনুস্মৃতির সমালোচনা নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অশ্লীল গালিগালাজ মেয়েরাও করেছে, ছেলেরাও করেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শুধু মেয়েদের গালিগালাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, কালচালার শক হিসাবে দেখেছেন। এমন ভাব যেন ছেলেরা অশ্রাব্য কথা বললে তাতে আপত্তি নেই। মেয়েরা বললেই যত আপত্তি। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।” বিরোধী দলনেতার কথায় ইঙ্গিত, মেয়েরা যেভাবে ককরোচ বিক্ষোভে গালিগালাজ করেছেন, সেটাতে তাঁর সমর্থন না থাকলেও অন্তত আপত্তি নেই। রাহুল ওই সভায় যেভাবে মনুস্মৃতির সমালোচনা করেছেন, যেভাবে গালিগালাজ করাকে ‘প্রশ্রয়’ দিয়েছেন সেটা আগামী দিনে বিতর্কের ইস্যু হতে পারে।

এদিকে, রাহুল গান্ধীর বৈঠকের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুণের সিওইপি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি। হস্টেলের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস কর্মী ও এবিভিপি সদস্যরা। শুক্রবার রাতের ঘটনা। শনিবার সকালে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কংগ্রেস কর্মীকে আটক করে পূণে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ২০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

জেন জি’র মন পেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে কংগ্রেস। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন রাহুল। আগের রাতে হোস্টেলের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের ব্যানার-পোস্টার লাগাচ্ছিলেন যুব কংগ্রেস কর্মীরা। অভিযোগ সেই সময়ে এবিভিপি সদস্যরা তাঁদের উপরে হামলা করেন। এবিভিপি-র পালটা দাবি, কংগ্রেস কর্মীরা পুণের কলেজ ছাত্রীদের জোর করে ওই অনুষ্ঠানে নাম নথিভুক্ত করানোর চেষ্টা করছিল। তাঁরা বাধা দিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *