ভোটে পরাজয়ের পর প্রথমবার উত্তর দিনাজপুরে দলীয় সভা মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর সভার আগেই তাঁকে দেখে ‘গো ব্যাক’ আর ‘চোর চোর’ স্লোগান দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের তির বিজেপির একদল কর্মী- সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রতিফলন।”
রবিবার বিকালে চোপড়া বিধানসভার ইসলামপুরের কমলাগাঁও-সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাংগঠনিক সভার আয়োজন করে মমতাপন্থী তৃণমূল। বিকালে সভামঞ্চে প্রবেশের সময় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একদল বাসিন্দা ‘গো ব্যাক’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয় বলে অভিযোগ। আর তাতেই সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও বিক্ষোভকারীরা মঞ্চের সামনে প্রবেশ করতে পারেননি। পুলিশের হস্তক্ষেপে কিছু সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসলামপুরের বিধায়ক তথা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে নিশানা করে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেখবেন ইসলামপুরের বিধায়ক যেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ভোটে জিতে বড় বড় কথা বলা বিধায়কদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিকভাবে কাজ করুন।”
আরও পড়ুন:
এদিন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সাংগঠনিক সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সভায় হাজির ছিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন-সহ ইসলামপুর ও চোপড়ার মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সভা শুরুর আগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ছেড়ে যাওয়া তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের ১৫ দিনের মধ্যে দলে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে মমতার বার্তা, দলে নেতার চেয়ে কর্মী-সমর্থকরাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এদিন নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে দল গঠন করতে পেরেছিলেন, এখনও দলকে নতুন করে সংগঠিত করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
