চোখের সামনে সলিল সমাধি ইঞ্জিনিয়ার ছেলের! ‘বাবা, আমি মরতে চাই না’, কানে ভাসছে শেষ আর্তি

চোখের সামনে সলিল সমাধি ইঞ্জিনিয়ার ছেলের! ‘বাবা, আমি মরতে চাই না’, কানে ভাসছে শেষ আর্তি

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


“বাবা, আমি মরতে চাই না। প্লিজ, আমাকে বাঁচাও।” গাড়ি দুর্ঘটনার পর গভীর গর্তের কাদাজলে তলিয়ে যাওয়ার আগে বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন ২৭ বছরের যুবক। ছেলের ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বাবা। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল পুলিশের উদ্ধারকারী দল। এর পরেও বাঁচানো গেল না পেশায় ইঞ্জিনয়ার ওই যুবককে। কার্যত চোখের সামনে পুত্রকে কাদাজল গর্তে তলিয়ে যেতে দেখলেন পিতা! শুক্রবার রাতে নয়ডায় ঘন কুয়াশার জেরে ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

আরও পড়ুন:

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা ৭০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় যুবরাজ মেহতার। গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে অফিস থেকে নিজেই এসইউভি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। তখন ঘন কুয়াশায় রাস্তায় দৃশ্যমানতা প্রায় ছিল না। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে বিরাটাকার একটি গর্তে পড়ে যায় গাড়িটি।

কাদাজল ভরা গর্তের মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পড়ে গাড়িটি। নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত চালকের আসন থেকে বেড়িয়ে গাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়ান যুবরাজ। কিন্তু তিনি সাঁতার জানতেন না ফলে জলে নামতে পারেননি। ওই অবস্থায় বাবাকে ফোন করে বলেন, “বাবা, আমি জল ভরা একটি গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছি। আমি ডুবে যাচ্ছি। প্লিজ, এখানে এসে আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” যদিও গাড়িটি বেশিক্ষণ যুবরাজের ভার নিতে পারেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।

কাদাজল ভরা গর্তের মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পড়ে গাড়িটি।

অথচ মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সেখানে পৌঁছান যুবরাজের বাবা রাজ মেহতা এবং পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল। তার আগে অবশ্য এক পথচারী যুবরাজকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জলের মাঝখানে যেতে পারেননি তিনিও। নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন। সাহায্য চেয়ে মরিয়া চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর গলা শুনতে পেলেও ঘন কুয়াশার কারণে গর্তের ভিতরে তাঁকে দেখতে পাননি উদ্ধারকারীরা।

আরও পড়ুন:

পুলিশকর্মীরা গহ্বরে ক্রেন নামিয়েও উদ্ধার করতে সক্ষম হননি যুবরাজকে। যদিও কোনও পুলিশকর্মী বিপজ্জনক গর্তে নামেননি বলেই অভিযোগ। পরে খবর দেওয়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। অভিযোগ, তাঁদের কাছেও উপযুক্ত সরঞ্জাম ছিল না। ধীরে ধীরে মৃদু হতে থাকে যুবরাজের গলার স্বর। কার্যত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেকে মরতে দেখেন বাবা! অনেক পরে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। এর পরেও অবশ্য দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি রাতে। পরদিন সকালের আলোয় গভীর গর্ত থেকে যুবরাজ মেহতার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখন অভিযোগ উঠছে, ওই গর্তের পাশে কোনও রেলিং বা বিপদসংকেত ছিল না। এর ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *