পর্যটকের ছদ্মবেশে ‘চিকেনস নেক’-এ নজরদারির চেষ্টা চিনা গুপ্তচরদের! পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশি উগ্রপন্থী সংগঠন এই করিডোরকে অস্থিতিশীল করতে ‘স্লিপার সেল’ নিয়োগের চেষ্টা চলছে! গত কয়েকমাসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় চর সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরেই এহেন জল্পনা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দাদের শঙ্কা, হোটেল, হোম-স্টেতে আস্তানা গেড়ে কাজ চালাচ্ছে স্লিপার সেলরা! এমনকী ‘চিকেনস নেকে’র ‘ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ ভাঙতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও পাক গুপ্তচর সংস্থার ‘হানি ট্র্যাপ’।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন ‘চিকেনস নেক’-এর আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা রুখতে ভারতীয় বায়ুসেনা যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সেটা শুধু পাকিস্তান নয়, চিনেরও ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুন:
একদিকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেঁসে দেশের সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচারের মারাত্মক অভিযোগে হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনি থেকে গ্রেপ্তার এক ভারতীয় জওয়ান। অন্যদিকে, পর্যটকের ছদ্মবেশে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে বিনা অনুমতিতে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ধৃত এক চিনা নাগরিক। দুটি পৃথক ঘটনা চিন্তার ভাজ ফেলেছে সেনাকর্তাদের কপালে। শুক্রবারের দুটি ঘটনাই স্পর্শকাতর চিকেনস নেক এলাকা সংলগ্ন। হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনি থেকে ধৃত সেনা জওয়ানের নাম রাজবীর সিং। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। হাসিমারা থেকে বায়ুসেনার বিভিন্ন তথ্য পাঞ্জাবে এক সুন্দরী মহিলাকে পাঠাতেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই মহিলাও পাক চর বলে দাবি। সে সেনা জওয়ানের পাঠানো ছবি, তথ্য, ম্যাপ পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে সরবরাহ করত বলে অভিযোগ। পাঞ্জাবের ফাজিলকা থেকে ওই মহিলা গ্রেপ্তারের পর প্রেমের ফাঁদে আটকে দেশদ্রোহীতার কাজে লিপ্ত রাজবীর সিংয়ের নাম উঠে আসে। শুক্রবার সেনা জওয়ানকে শিলিগুড়ি আদালতে তুলে ২ দিনের ট্রানজিট রিমাণ্ডে নিয়ে পাঞ্জাবে চলে যান তদন্তকারীরা। ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় এবং সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন ‘চিকেনস নেক’ -এর নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে রাজবীর ঠিক কোনও তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাচার করেছে! নথি হস্তান্তরের বদলে কত টাকার লেনদেন হয়েছিল এবং এই চক্রান্তের পেছনে সেনাশিবিরের ভেতরে তাঁর কোনও সহযোগী রয়েছে কিনা তাও এখনও তদন্তের আওতায় বলে জানা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন ‘চিকেনস নেক’-এর আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা রুখতে ভারতীয় বায়ুসেনা যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সেটা শুধু পাকিস্তান নয়, চিনেরও ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আকাশসীমা সুরক্ষায় ইসরায়েলি অত্যাধুনিক অ্যারোস্ট্যাট রাডার প্রযুক্তি এবং এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় এবং সীমান্ত এলাকায় সর্বাধুনিক ইনফ্রারেড অ্যালার্ম ও গেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি চিন ও পাকিস্তানের কাছে যথেষ্ট এলার্মিং। কারণ, পালটা কড়া জবাবের ব্যবস্থাও রয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি পাকিস্তান ও চিন ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে রাখা ‘ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ ভাঙতে এখন ‘হানি ট্র্যাপ’ নামিয়ে সেনা জওয়ানদের ধরার কৌশল নিয়েছে?
দ্বিতীয় ঘটনা ইউহাস লিউ-এর মতো চিনা নাগরিকের পর্যটক ছদ্মবেশে নেপাল থেকে চুপিসারে ভারতে প্রবেশ করে গুপ্তচরের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও রাক্সাউল, যোগবাণী সীমান্ত থেকে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মীরা একাধিক চিনা পর্যটককে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। তবে শুধু চিন নয়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশের কিছু উগ্রপন্থীরা ‘চিকেনস নেক’ এলাকা অস্থিতিশীল করতে পর্যটকের ছদ্মবেশে চর পাঠাচ্ছে, স্লিপার সেল নিয়োগের চেষ্টা করছে। ওরা হোটেল, লজ অথবা হোমস্টেগুলোকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনিতেই শিলিগুড়ি, সিকিম, দার্জিলিং এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের মতো প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো ‘চিকেনস নেক’-এর কাছে রয়েছে। এর ফলে সাধারণ পর্যটক হিসেবে ভিডিওগ্রাফি করার নাম করে শত্রু দেশের চর বা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র এই অঞ্চলের সামরিক গতিবিধি, রেললাইন, সেতু এবং বিমানঘাঁটির উপর নজরদারি করার চেষ্টা করছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি অথবা বিদেশি চররা সহজে মিশে যেতে পারে। সাধারণ পর্যটক হিসেবে ক্যামেরা অথবা ড্রোন ব্যবহার করে ভূখণ্ড, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প, রেললাইন,সড়কের ছবি তুললে সহজে কেউ সন্দেহ করে না। ওই সুযোগ পর্যটকের ছদ্মবেশে চর এবং স্লিপার সেল নিচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন। ওই বার্তা পেয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ স্থানীয় হোটেল ও হোমস্টে-তে আসা পর্যটকদের পরিচয়পত্র যাচাইকরণ এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য সি-ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করেছে। সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকায় সন্দেহভাজন কোনও পর্যটক ড্রোন উড়িয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলে প্রশাসন ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী কঠোর আইনি পদক্ষেপ করছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
