চাকরির ‘টোপ’ দিয়ে হাতানো জমিতে প্রাসাদ! জনতার বিক্ষোভে ‘গৃহবন্দি’ তৃণমূল নেতা

চাকরির ‘টোপ’ দিয়ে হাতানো জমিতে প্রাসাদ! জনতার বিক্ষোভে ‘গৃহবন্দি’ তৃণমূল নেতা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


চাকরির টোপ দেখিয়ে টাকা-জমি হাতিয়ে নেওয়া, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীদের দমিয়ে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জমছিল দীর্ঘদিন ধরে। বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের সেই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা নবকুমার পালের বাড়ির সামনে বৃহস্পতিবার কার্যত জনতার আদালত বসল! ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে বাড়ির ভিতরে নিজেকে ‘বন্দি’ করে ফেলেন পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির চেয়ারম্যান নবকুমার পাল। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দেখতে পেয়েই বাড়ির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন তিনি। এরপরই উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।

এদিন সকাল থেকে বামিরা গ্রামে শতাধিক মানুষ নবকুমার পালের বাড়ির সামনে জড়ো হন। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের শাসনকালে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হত। টাকা দিতে না পারলে জমি বন্ধক বা লিখে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বহু মানুষ এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে না পারলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করা নবকুমার পালের সম্পত্তি গত ১৫ বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিলাসবহুল বাড়ি, বিপুল জমিজমা, বাগানবাড়ি – সব কিছুর উৎস নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জমি ও অর্থের বিনিময়েই এই সম্পত্তির সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে কি না, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:

‘ঘরবন্দি’ পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির চেয়ারম্যান নবকুমার পাল। নিজস্ব ছবি

অভিযোগকারী রাজকুমার কর্মকার বলেন, ‘‘পাঁচ বছর আগে আমার দাদা ও বৌদিকে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে আট লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় আমাদের জমি তাঁর নামে লিখে দিতে বাধ্য করা হয়। চাকরি পাইনি, জমিও হারিয়েছি। এখন জমি ফেরত চাই।’’ বিক্ষোভ চলাকালীন একসময় উত্তেজিত জনতা বাড়ির সামনে থাকা আসবাবপত্র, দরজা-জানলা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবকুমার পাল। তাঁর দাবি, ‘‘আমি কাউকে চাকরির নাম করে টাকা বা জমি নিইনি। কোনও জোরজবরদস্তিও করিনি। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’’ এলাকার মানুষের পালটা প্রশ্ন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন গত পনেরো বছরে তাঁর যে সম্পত্তির পাহাড় গড়ে উঠেছে, তার প্রকৃত উৎস কী? সেই প্রশ্নই এখন পাত্রসায়েরের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *