গন্ধজাল
শ্বেতা সরখেল
১
সুপর্ণা শিকদার। চরিত্রটি আকর্ষণীয়। ঠিক যেন শান্ত নদীতে হড়পার মতো চলে আসে এই নারী।
প্রদীপ রায়চৌধুরী কলকাতার বেহালার বাসিন্দা। রাজ্য সরকারের চাকুরে। খুব বেশি মাইনের চাকরি না হলেও বাবাকে নিয়ে ওর ছোটখাটো সংসার বেশ ভালোভাবে চলে যায়।
দীপ্ত খুব ভালো ছেলে। নরেন্দ্রপুর থেকে ভালো রেজাল্ট করে পাশ করে ডাক্তারি শেষ করে এখন নামকরা কার্ডিওলজিস্ট। দীপ্তর স্ত্রী হেমা। হেমা কুলকার্নি। সে-ও ব্যস্ত গাইনি।
হিমাদ্রির পারিবারিক ব্যবসা। কলকাতায় নামী-দামি স্টার হোটেলের অনেকগুলোই ওদের।
এ তো গেল মাত্র তিনজনের কথা। এরকম আরও অনেকে আছে যারা এই হড়পায় তলিয়ে যাওয়া কিংবা হাতড়ে-পাতড়ে কোনওমতে বেঁচে উঠে প্রাণ রক্ষা পাওয়া জীবন্ত দলিল।
প্রদীপের সঙ্গে সুপর্ণার আলাপ বইমেলায়। একই স্টলে বই কিনতে গিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বই দেখছিল দুজন। কেউ কাউকে চেনে না। প্রদীপ মনোযোগ দিয়ে নতুন লেখকদের কী কী নতুন বই বেরিয়েছে দেখছিল শেল্ফের দিকে তাকিয়ে। সুপর্ণা আড়চোখে লক্ষ করছিল প্রদীপকে। একটা বই হাতে নিয়ে প্রদীপের দিকে তাকিয়ে বলল, এই দেখুন এই বইটা মনে হচ্ছে নতুন বেরিয়েছে। আপনি কি এরকম কিছু খুঁজছেন? প্রদীপ অবাক চোখে তাকিয়ে সুপর্ণার হাত থেকে বইটা নিয়ে বলল, হ্যাঁ, আপনি কী করে বুঝলেন? ইনি নতুন লিখছেন। বেশ ভালো। দু’একটি কথার পর সুপর্ণা ডান হাতের পাতাটা এগিয়ে ধরল প্রদীপের দিকে। বলল, আমি সুপর্ণা শিকদার। উত্তরবঙ্গে থাকি। আপনি? প্রদীপ বইটা পেয়ে এতটাই খুশি হয়েছে যে হাতে হাত মিলিয়ে ঝাঁকিয়ে বলল, আমি প্রদীপ রায়চৌধুরী। আপনি ফেসবুকে আছেন? বলল সুপর্ণা। প্রদীপ চকচকে চোখে বলে উঠল, অবশ্যই। লাস্যময়ী ভঙ্গিতে টা-টা বলে চলে গেল সুপর্ণা।
বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট চলে এল প্রদীপের মোবাইলে। আকসেপ্টেড। শুরু হল রাত্রিবেলা মেসেঞ্জারে চ্যাটিং। প্রদীপ সুপর্ণার কথার জালে জড়াতে শুরু করল নিজের অজান্তেই। খুব ভালো লেগে গেল সুপর্ণার সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার ধরন! প্রদীপের ভোরবেলা ঘুম ভাঙলেই ফোনে চলে আসে। সারাদিন কেবল গল্প গল্প আর গল্প। মনের ভেতর আগুন জ্বলে গেছে প্রদীপের। ইচ্ছে করে সারাটা দিন সুপর্ণার সঙ্গে সময় কাটায়। সুপর্ণা যে কয়েক মাস বাদে বাদে একলাই কলকাতায় চলে আসে তা ইতিমধ্যে জেনে গেছে প্রদীপ।
‘আমি যামিনী তুমি শশী হে, ভাতিছ গগন মাঝে…’ ভারী সুন্দর গান গায় দীপ্ত। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য গঙ্গার ধারে সুপর্ণার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকার চাইতে আর কোনও স্বর্গীয় সুখ হয় বলে দীপ্ত বিশ্বাস করে না। জ্যোৎস্না রাতে এরকম নরম কোল দীপ্তকে পাগল করে রেখেছে পাঁচ বছর ধরে। দীপ্তর চুলে বিলি কাটতে কাটতে মিষ্টি স্বরে সুপর্ণা বলে ওঠে, কী সুন্দর গাও গো তুমি! তোমার এই সুর শোনার জন্যে নিজের সবকিছু দিয়ে দেওয়া যায়। আলতো করে দীপ্তর কপালে চুমু খায় সুপর্ণা।
সুপর্ণা বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় কলকাতার বাড়িখানা নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে। বাবা, মা গত হয়েছেন বছর দশেক হল। ফলে এই বাড়িতে ওর নিজের মনের মতো জগৎ তৈরিতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। দীপ্ত এলে বিছানায় গাঢ় বেগুনি ভেলভেটের চাদর পাতে। নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ায়। দিন পনেরো কলকাতায় কাটিয়ে সুপর্ণা আবার ফিরে যায় উত্তরবঙ্গে নিজের স্বামী-সন্তানের সংসারে।
প্রদীপের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু দীপ্তর কথা প্রদীপকে জানতে দেওয়া হয়নি। এদিকে, প্রদীপ কিন্তু মনে মনে সারাটা দিন স্বপ্নের বীজ বুনে চলেছে সুপর্ণাকে নিয়ে। আবার কবে কলকাতায় আসবে পর্ণা? জিজ্ঞাসা করল প্রদীপ। সুপর্ণা বলল, এর পরের বার এলে তোমাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব। নিজে হাতে রান্না করে খাওয়াব, যা-যা ভালোবাসো তুমি। পার্কের বেঞ্চে পাশাপশি বসে প্রদীপ নিজের দুটো হাত দিয়ে জোর করে চেপে ধরল সুপর্ণার ডান হাতের পাতাটা। আবেগ মিশ্রিত গলায় বলল, বলো পর্ণা, আমাকে ছেড়ে তুমি কোত্থাও চলে যাবে না। হাঃ হাঃ করে হেসে উঠল সুপর্ণা। মোহময়ী কণ্ঠে বলল, কোথায় যাব? আমি তো তোমারই। প্রদীপ এই প্রথম কাউকে এমনভাবে ভালোবেসে ফেলল যে কিনা ওর জীবনে বেঁচে থাকার মানেটাই বদলে দিল। এত ভালোবাসা প্রদীপকে কেউ দিতে পারবে, তা ও নিজেও কোনওদিন ভাবতে পারেনি। সুপর্ণা বিবাহিত, এক সন্তানের মা, সবটা জানা সত্ত্বেও ওর ভেতরে কেমন একটা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এই প্রেম। আচমকা আর খুব তাড়াতাড়ি যেন চলচ্চিত্রের মতো পরপর বয়ে চলতে লাগল ঘটনাক্রম।
এরপর থেকে প্রায় বছর দুয়েক প্রদীপকে নিয়ে এই প্রেম-প্রেম খেলা খেলে চলল সুপর্ণা, দীপ্তকে আড়ালে রেখে। কিছুদিনের মধ্যেই সুপর্ণা বুঝে গেল যে প্রদীপের থেকে শয্যাসুখ ছাড়া আর তেমন কিছু পাওয়ার নেই। ফলে এই ফালতুটাকে ছেঁটে ফেলতে হবে। প্রদীপের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিতে লাগল ওর আদরের পর্ণা। প্রদীপ পাগল হয়ে যেতে লাগল। একটু কথা বলো পর্ণা, কথা বলো। এই বলতে বলতে আর কাকুতিমিনতি করতে করতে প্রদীপ ধীরে ধীরে আন্দাজ করতে পারছিল যে এটা ঠিক স্বাভাবিক আচরণ নয় পর্ণার। তারপর এল সেই দিন। ফোনের ওপার থেকে ভেসে এল ঠান্ডা অথচ রূঢ় এক কণ্ঠ যা প্রদীপ কোনওদিন শুনবে বলে আশা করেনি। তোমার সঙ্গে আমার আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব হচ্ছে না প্রদীপ, তুমি কিছু মনে কোরো না। বিনা মেঘে বজ্রপাত একেই বলে। শিউরে উঠল প্রদীপ। ভাবল, বারবার কলকাতায় এসে কত ভালোবাসার কথা বলেছে সুপর্ণা! সে সব কি তাহলে মিথ্যে ছিল? এখন কী করবে ও?
২
দীপ্তর সঙ্গে সম্পর্কটা আজও রেখেই চলেছে সুপর্ণা। বছর পাঁচেক তো হলই। ইতিমধ্যে প্রদীপ ভেঙেচুরে চুরমার হয়ে গেছে। প্রদীপের দিদি নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়েছে ভাইকে। সান্ত্বনা দিয়েছে, বুঝিয়েছে। হাউহাউ করে বুক ফাটা কান্না কেঁদেছে প্রদীপ দিদির বুকের ওপর মুখ গুঁজে। দিদিই ওকে চোখের জল মুছিয়ে আবার ফিরিয়ে এনেছে দৈনন্দিনতার মূলস্রোতে। কিন্তু সুপর্ণা যে এই স্যাডিস্টিক প্লেজারটা এনজয় করল তার কী হল? কিচ্ছু হল না।
দীপ্ত এই পাঁচ বছরে সুপর্ণার পেছনে অন্তত লাখ তিনেক টাকা খরচ করেছে। যতই হোক ভালোবাসার নারী তো। রূপে তেমন না হলেও বুদ্ধিমত্তায় আর লাস্যময়ী ভঙ্গিমায় চমৎকার। যে কেউ নিজেকে হারিয়ে ফেলবে সুপর্ণার কায়দাকানুনের ঘোরে। দীপ্তও ব্যতিক্রম নয়। দীপ্তর থেকে যতটা ফয়দা তোলা যায়, সুপর্ণা তুলে নিয়েছে নির্দ্বিধায়। বিনিময়ে দীপ্তর সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয়টা চালিয়ে যেতে হয়েছে, এটুকুই যা ঝামেলা।
দীপ্ত, কখন আসবে তুমি? মিষ্টি গলায় প্রশ্ন করল সুপর্ণা। দীপ্ত বলল, আসছি ডার্লিং। তুমি এক কাজ করো। একটা ক্যাব ধরে সিনেমা হলে পৌঁছে যাও, আমি চেম্বার থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছি। ফেরার সময় তোমাকে আমি ড্রপ করে দেব। ক্যাবে কত লাগবে বলো, আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি। দীপ্ত তখনও জানে না ওর জন্য কী অপেক্ষা করে আছে আজ। মঞ্চে হিমাদ্রির প্রবেশ হয়েছে মাস দুয়েক আগে। হিমাদ্রি দীপ্তর চেয়ে অনেক বড়লোক। সামনেই আবার সুপর্ণার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে, অনেক খরচ। ফলে…। হিমাদ্রিও যে আজকাল গাঢ় বেগুনি ভেলভেটের চাদরে সুপর্ণাকে কাছে পায়, দীপ্ত সেসবের কিছুই জানে না।
দীপ্ত পপকর্ন আর কোল্ড ড্রিংকের ট্রে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। পাশাপাশি বসে হাত ধরাধরি করে সিনেমা দেখা পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। গোলটা বাধানো হল বাইরে বেরোনোর পর। আচমকা সুপর্ণা বলে বসল, শোনো দীপ্ত, আমার পক্ষে আর তোমার সঙ্গে সম্পর্কটা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আজকের পর আর তোমার সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ থাকবে না। কেমন? দীপ্ত অবাক চোখে তাকাল সুপর্ণার দিকে। প্রচুর প্রশ্ন দীপ্তর চোখেমুখে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, চলো, তোমাকে ড্রপ করতে যেতে যেতে শুনছি। ড্রাইভ করছে দীপ্ত। গম্ভীর হয়ে পাশে বসে আছে সুপর্ণা। দীপ্ত জিজ্ঞাসা করল, হলটা কী সুপর্ণা, এত কড়াভাবে এসব কী বলছ তুমি? তুমি কি সত্যি সত্যিই এসব বলছ? তোমাকে ছাড়া আমি ভালো থাকব কী করে? সুপর্ণা চুপ করে বসে আছে পাথরের মূর্তির মতো। মুখে কোনও অভিব্যক্তি নেই। দীপ্ত আবার জিগ্যেস করল, কী হয়েছে বলবে না? আমি তোমাকে বলতে বাধ্য নই দীপ্ত। আলবাত বাধ্য। গলা চড়াল দীপ্ত। কথায় কথা বাড়ল। গাড়িতেই শুরু হয়ে গেল তুমুল বাগবিতণ্ডা। সুপর্ণা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাবে, দীপ্ত দেবে না।
পাঁচ-পাঁচটা বছর ধরে সুপর্ণাকে কেবল নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই দিয়ে গেছে দীপ্ত, বিনিময়ে কিচ্ছু চায়নি। সুপর্ণা নিজেই ডেকে নিয়েছে ওর কলকাতার বাড়ির ড্রয়িংরুমে। সেখান থেকেই ক্রমে ক্রমে প্রবেশ করেছে কিচেন, ডাইনিং এমনকি বেডরুমেও। সুগন্ধি মাখার অভ্যেস আছে বলে ইম্পোর্টেড কতই না পারফিউম কিনে দিয়েছে সুপর্ণাকে। যখন-তখন টাকার প্রয়োজন মিটিয়েছে। বিনিময়ে ভালোবাসা ছাড়া কিচ্ছু চায়নি ছেলেটা।
দীপ্ত প্রদীপের মতো ছাড়বার পাত্র নয়। ফোনের পর ফোন করে চলেছে সুপর্ণাকে। সুপর্ণা উত্তরবঙ্গের সবুজ শান্ত নিশ্চিন্ত পরিবেশে বসে ঠান্ডা মাথায় হিমাদ্রিকে জড়িয়ে ধরছে। দীপ্তর নম্বরগুলো ব্লক করে দিয়েছে সুপর্ণা। ফেসবুকে ব্লক করে আনফ্রেন্ড, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার কোত্থাও কোনওভাবে আর যোগাযোগের পথ রইল না দীপ্তর।
উন্মাদের মতো দীপ্ত কলকাতা থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে এল ডুয়ার্সের সেই শান্ত শহরে যেখানে ওর এতগুলো বছরের নিখাদ ভালোবাসার মানুষটি লুকিয়ে আছে। উঠল সুপর্ণার বাড়ির কাছের একটি হোটেলে। রিসেপশন থেকে ফোন করল দীপ্ত, শুধু এটুকু বলার জন্য যে, কেন তাহলে এতগুলো বছর ধরে আমার মন নিয়ে মিথ্যে ছিনিমিনি খেললে, কী অপরাধ আমার? কিন্তু সে হবার নয়। সুপর্ণা শিকদার এরকমই। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসায় সুপর্ণা ধরল ওপার থেকে। কিন্তু দীপ্তর কথা শেষ হওয়ার আগেই চিৎকার করে বলে উঠল, আর কতবার বলব যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না? এই নম্বরটাও ব্লক হয়ে গেল পরমুহূর্ত থেকেই। এবার আর দীপ্তর ধৈর্যের বাঁধ মানল না। হোটেলের ঘরে গিয়ে বিছানার ওপর আছড়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল ছোট্ট ছেলের মতো।
পরদিন দীপ্ত কলকাতায় ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় করছে, এমন সময় একটা ফোন এল ওর মোবাইলে। আমি লোকাল থানার আইসি বলছি, আপনার নামে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে আমাদের থানায়। অভিযোগ করেছেন সুপর্ণা শিকদার নামের এক ভদ্রমহিলা। তিনি বলেছেন, আপনি নাকি ওঁকে বিরক্ত করছেন? দীপ্তর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। আমি বিরক্ত করছি! স্বগতোক্তি করল দীপ্ত। বুকের ভেতরটা ডুকরে উঠল। আমার এত ভালোবাসা এক মুহূর্তে মিথ্যে হয়ে গেল? নিজেকে সামলে নিয়ে জিগ্যেস করল, এখন আমাকে কী করতে হবে? ভদ্রমহিলার সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগের চেষ্টা করবেন না। ফের যদি অভিযোগ পাই তাহলে আপনাকে কাস্টডিতে নিতে বাধ্য হব।
জীবনের মানেটাই পালটে গেল দীপ্তর। বুকের ভেতর চলচ্চিত্রের মতো এতদিনকার কত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ভেসে ভেসে আসতে লাগল। সুপর্ণা ওর জীবনের পুরোটা জুড়ে রাজত্ব করেছে এতদিন। নির্ভেজাল, নিষ্পাপ এবং অকৃত্রিম এই ভালোবাসার নৃশংস, নিষ্ঠুর এই পরিণতি দীপ্ত কোনও যুক্তি দিয়েই মেনে নিতে পারল না শেষমেশ।
এই ঘটনার মাসখানেক বাদে দীপ্তর ঘর থেকে একটা চিরকুট পেল হেমা। আঁতকে উঠল পড়ে। তাতে লেখা, ‘পৃথিবী থেকে আমার এই চিরবিদায়ের জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার ভালোবাসা দীর্ঘজীবী ও চিরস্থায়ী হোক।’
