‘গর্বের দিনে দিদিকে ধন্যবাদ’, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধনে আবেগে ভাসলেন দেব

‘গর্বের দিনে দিদিকে ধন্যবাদ’, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধনে আবেগে ভাসলেন দেব

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাটালের তারকা সাংসদ দেবকে পাশে নিয়ে সিঙ্গুরের সভা থেকে ভারচুয়ালি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করলেন তিনি। কেন্দ্রের সাহায্য না পাওয়ায় রাজ্যের উদ্যোগে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। বছরের পর বছর পর ঘাটালবাসীর দুর্দশা দূর হওয়ার বন্দোবস্তে খুশি দেব। মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানান তারকা সাংসদ।

ঘাটালের ছেলে দেব। ছোটবেলা থেকে নিজে প্লাবিত ঘাটালের প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। আজ সেই গ্রামের ছেলের হাত ধরেই ঘুচতে চলেছে দুর্ভোগ। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগে ভাসছেন দেব। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেব বলেন, “আজকে দিদি যে কাজটা করলেন এটা কোনও সোজা ব্যাপার নয়। ঘাটালের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন এমন কেউ আসবেন যে আমাদের দুঃখ বুঝবেন। আমি প্রথমবার সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় বাংলায় বলেছিলাম। ঘাটাল নিয়ে বলেছিলাম। আমি দিল্লিতে গিয়েছি। বৈঠক করেছি। কিন্তু আমাদের কথা রাখেনি কেউ। দিদি কথা দিয়েছিলেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করবেন। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। করলেন আজ। কেউ কথা রাখেনি। যিনি কথা রেখেছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী।”

আরও পড়ুন:

দেব আরও বলেন, “এখন সোশাল মিডিয়ার যুগ। একটা কথা বললেই ট্রোল হবেন। যে সরকার কথা দিয়েছে, ভোটের পর কথা রাখছে সেই তো ভোট পাবে। আমি ঘাটালের ছেলে। এই ফাইলটা প্রতিটি সরকার, প্রতিটা দপ্তরের টেবিলে ছিল। কিন্তু কেউ কাজ করেনি। ভোট নিয়ে চলে যায়নি। যে দলটা গত ১৫ বছর ধরে মানুষকে আগলে রেখেছে তার তো জেতা উচিত। যে মানুষটা শুধু উন্নয়নের কাজ করে গিয়েছে। তিনি দেখেননি কে সিপিএম, কংগ্রেস করে। শুধু সকলের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। আমি জোর করব না ভোট দেওয়ার জন্য। একজন মহিলা গত ১৫ বছর ধরে সকলের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। আজ আমার বলার দিন নয়। আমার গর্বের দিন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শুভ উদ্বোধন হল আজ। দিদি এবং অভিষেককে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, ঘাটাল মূলত শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির লীলাভূমি হিসাবে পরিচিত। তখনকার আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলস্বরূপ স্থানীয় ভূস্বামীরা এই নদীগুলির বন্যা ঠেকাতে সার্কিট বাঁধ দিয়ে নিজেদের জমিদারিতে নিচু এলাকাগুলিকে বন্যা থেকে বাঁচিয়ে আবাদি জমি বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। সেই জমিদারি জমানা আর নেই। কিন্তু জমিদারি বাঁধগুলি আজও রয়ে গিয়েছে। এই জমিদারি বাঁধগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। তার ফলে বাঁধগুলি ভেঙেই মূলত ঘাটাল এলাকায় বন্যা দেখা দেয় ফি বছর। উলটোদিকে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদী বাঁধ উপচে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে নদীতেই জমতে থাকে পলি মাটি। ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। আর ফি বছর বন্যা প্রবণতাও বাড়তে থাকে। এই সমস্যা মেটাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভাবনা। কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ। সিঙ্গুরের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানেরই উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *