খড়ের ছাউনিতে অধিষ্ঠিত লক্ষ্মী-নারায়ণ, গৃহস্থের কোজাগরীতে থিম গড়ে নজির পুরুলিয়ার শিক্ষকের

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


গৃহস্থের কোজাগরিতেও থিম! সেই থিমে ফুটে উঠেছে শিক্ষা এবং সমৃদ্ধি। যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে গ্রাম বাংলার নারীশিক্ষা। তাই বলে পুরুষকে অবহেলা নয়। নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই সমৃদ্ধি আসে। ঘরের লক্ষ্মীর আরাধনায় এই ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন পুরুলিয়ার রাঁচি রোডের বাইলেনের বাসিন্দা তথা শিক্ষক শঙ্কর মুখোপাধ্যায়। টানা ২০ বছর ধরে এভাবে থিমের মধ্যে দিয়ে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করে আসছেন পুরুলিয়া মফস্বলের বেলকুঁড়ি রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের এই সংস্কৃত শিক্ষক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এবার দেবীর আলয় তৈরি করেছেন একেবারে পরিবেশবান্ধব মাটি, খড়, বাঁশ, পাঠকাটি দিয়ে। তাঁর থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাম বাংলার পরিবেশে কুঁড়ে ঘরে মা লক্ষ্মী এসেছেন। আলপনা দেওয়া কুঁড়ে ঘরের পাশে গোলা ভরা ধান। পাশে কলা গাছ। ঘরের চালায় লাউ-র ফলন, সাবেকি লন্ঠন। একেবারে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রাম বাংলার ছবির এই শিল্পকর্মে। ঘরের দরজার মুখে সিঁড়ির কাছে ঝাঁপি নিয়ে বসে রয়েছেন মা লক্ষ্মী। তার নিচেই বাহন সাদা পেঁচা। মা একেবারে আটপৌরে শাড়ি পরিহিতা। দেড় ফুটের ওই কোজাগরী লক্ষীর লালপাড় বেনারসি তৈরি করেছেন শিক্ষক নিজেই। শিক্ষকের কোজাগরী লক্ষ্মী একেবারে সোনায় মোড়া। গলার হার, মুকুট, কানের দুল, নথ, কোমরবন্ধনী, চুরি, আংটি দিয়ে সোনায় মুড়েছেন। ওই দেড় ফুটের ধনদেবী যেন মৃন্ময়ী নন। মনে হচ্ছেন সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী। সেই সঙ্গে তাঁর থিমের মূল দিক অর্থাৎ নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই সমৃদ্ধি আসে। তাই একেবারে ঘরের ভিতরে অধিষ্ঠান করছেন নারায়ণ।

আরও পড়ুন:

শিক্ষকের কথায়, “মহালয়া থেকে এই কাজ শুরু করেছিলাম। প্রত্যেকবারই কোজাগরী মা লক্ষ্মীর আরাধনায় থিম থাকে। এবারও রয়েছে। কাজ প্রায় শেষের মুখে। ” একদিকে থিম। সেইসঙ্গে চলছে আলপনা দেওয়ার কাজ। বিগত দিনে গৃহস্থের অব্যবহৃত পণ্য বা পাট, খাদ্যশস্য ও বস্ত্রের মিশেলে মা লক্ষ্মী গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে যে ১১ রকমের মাটি প্রয়োজন হয়, সেই মাটি দিয়েই তিনি ফি বছর লক্ষ্মী মূর্তি গড়েন। 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *