আইসক্রিম মানেই আনন্দের স্বাদ। গরমের দুপুরে ঠান্ডা আইসক্রিম যেন মুহূর্তে এনে দেয় স্বস্তির ছোঁয়া। তবে স্বাস্থ্য নিয়ে কথা উঠলেই আইসক্রিমকে সাধারণত ভালো চোখে দেখা হয় না। চিনি, ফ্যাট আর ক্যালরি বেশি থাকায় এটিকে বেশিরভাগ সময়ই ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল বলছে উলটো কথা! গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তুলনামূলক বেশি আইসক্রিম খান, তাঁদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কম! তবে এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্য়েও রয়েছে বিস্ময়।


আরও পড়ুন:
গবেষণার তথ্যে চমক
২০০০ সালের শুরুর দিকে হৃদ্রোগের ঝুঁকি নিয়ে চলা একটি গবেষণায় প্রথম এই অদ্ভুত ইঙ্গিত সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সাধারণভাবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সিনড্রোম, যা ডায়াবেটিসের আগের অবস্থা, তার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ‘ডেয়ারি ডেজার্ট’, যার বড় অংশই আইসক্রিম। সেই আইসক্রিম খাওয়া মানুষের মধ্যে এই সিনড্রোমের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা যায়। এমনকী সাধারণ দুধের তুলনায় এই প্রভাব প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়।
২০০৫ সালে আমেরিকাতে প্রায় ৪১ হাজার পুরুষের উপর গবেষণাতেও মেলে একই ফলাফল। সেখানে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে দু’বার বা তার বেশি আইসক্রিম খান, তাঁদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম, যারা মাসে একবারেরও দুগ্ধজাত দ্রব্য় খান না তাদের তুলনায়।


দইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা সহজ
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দই খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট। প্রতিদিন একবাটি দই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য় করে এবং বিপাকক্রিয়াকে করে আরও কার্যকর। কিন্তু আইসক্রিমের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাটা এতটা সরল নয়। বরং এই রহস্যই গবেষকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।
কেন দেখা যাচ্ছে এমন ফল?
গবেষকরা কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা জানিয়েছেন-
রিভার্স কজেশন: অনেক সময় যাদের শরীরে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়, চিকিৎসকের পরামর্শে তারা মিষ্টি বা আইসক্রিম কম খেতে শুরু করেন। ফলে গবেষণায় দেখা যেতে পারে যে অপেক্ষাকৃত সুস্থ মানুষই বেশি আইসক্রিম খান।
রিপোর্টিং বায়াস: খাবার সংক্রান্ত গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা অনেক সময় ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবার খাওয়ার কথা পুরোপুরি জানান না। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, তারা আইসক্রিম খাওয়ার পরিমাণ কম করে বলে পারেন।
সম্ভাব্য জৈবিক কারণ: আইসক্রিমে ফ্যাট ও প্রোটিন থাকার কারণে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হতে পারে, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। এছাড়া দুধের ফ্যাটের চারপাশে থাকা একটি বিশেষ স্তর, মিল্ক-ফ্যাট গ্লোবিউল মেমব্রেন, আইসক্রিমে অক্ষত থাকে, যা বিপাকক্রিয়ার জন্য উপকারী হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই ফলাফল দেখে আইসক্রিমকে স্বাস্থ্যকর খাবার বা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায় মনে করা ভুল হবে। তবু গবেষণার তথ্য যেন এক অদ্ভুত প্রশ্ন ছুড়ে দিল, সম্ভবত দুগ্ধজাত খাবারের জগতে এখনও অনেক অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে। আর সেই রহস্যের স্বাদ হয়তো একদিন নতুন করে বোঝাবে, খাবারের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক কতটা গভীর ও জটিল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
