ছায়ামানুষ
রুদ্র সান্যাল
শহরের আলো নিভে গেলে
মোবাইলের স্ক্রিনে জ্বলে ওঠে একাকিত্ব।
আমরা কথা বলি— ইমোজিতে,
হাসি লুকিয়ে রাখি ‘সিন’-এর নীল টিকের আড়ালে।
রাস্তায় ভিড়, মনে ফাঁকা মাঠ,
যেখানে প্রশ্নেরা ঘাসের মতো বেড়ে ওঠে।
ভালোবাসা এখন চার্জারের মতো—
না থাকলে জীবন থেমে যায়।
সময় দৌড়োয়, আমরা স্ক্রল করি,
স্বপ্নগুলো পিছনে পড়ে থাকে আপডেটহীন।
তবু রাতের গভীরে একটুখানি আশা—
আলো নিভলেই আমরা সত্যি মানুষ হয়ে উঠি।
রসায়ন
শ্রেয়সী গুহ
কেমিস্ট্রি ল্যাবের পাশ দিয়ে গেলে
কিছু অচেনা গন্ধ বড়ই চেনা লাগে।
টেস্টটিউবের লালচে-গোলাপি দ্রবণে
বেগুনি রেণু ফুটে ফুটে
যেন সন্ধ্যার আকাশ হয়ে যায়।
বর্ণে গন্ধে মোহিত হয়ে ভাবি,
আতর থাকে কাচের শিশিতে,
কেন আতরের সমুদ্র থাকতে পারে না?
আমি কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়িনি…
দূর থেকে দেখি কাচের বিকারে
রঙ বদলের খেলা।
চেনা গন্ধ অচেনা করে
পাশ কাটিয়ে চলি।
নিজের খোঁজে
সাবিনা ইয়াসমিন
অচেনা পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে খুঁজি নিজেরে বারবার,
স্বপ্নই মোর চির-সাথী, স্বপ্নই অলংকার।
পথের ক্লান্তি ঘুচিয়ে দেয় ওই আশার মায়াজাল,
স্বপ্নভেলায় চড়েই তো আজ দিই জীবনের পাল।
নোনা জলের কাব্যগুলো হাসির আড়ালে হাসে,
রোদ্দুর এসে মনে মোর ভালোবাসার বিষাদ মাখে।
চলার পথে কাঁটা থাকুক, থাকুক হাজার বাধা,
মনের ভেতর সুরের টানে স্বপ্নগুলোই সাদা।
গৃহকোণ আজ সুরের কুটির, কাব্যি ছড়ায় আলো,
ডায়েরির পাতায় বন্দি থাকুক মন্দ এবং ভালো।
একলা ঘরের নীরবতায় কীসের তবে ভয়?
নিজের মাঝেই নিত্য আমার নতুন পরিচয়।
ছন্দহীন জীবনের বাঁকে খুঁজি নতুন ছন্দ,
শব্দের ভিড়ে মুছে যাক যত মান-অভিমান দ্বন্দ্ব।
আজানাকে আজ চেনা হলো নিজের ওই আয়নায়,
কবিতায় টানে মন ছুটে যায় অসীম সীমানায়।
নামহীন ভবিষ্যৎ
নিতাই দাস
চাঁদের জ্যোৎস্না গিলছে অন্ধকার
সৃষ্টির চেয়ে ধ্বংসের দিকেই
পা বাড়িয়ে আছে।
মঙ্গল ঘট ভাসিয়ে দাও
কলঙ্কের ঘন কালিমায়।
সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে
ইতিহাস ও ভূগোল-
মানচিত্রের দাগ মুছে গেলে
স্মৃতিও হয়ে ওঠে উদ্বাস্তু।
শব্দগুলো ক্লান্ত, অর্থ বদলে যায়
রাত্রির গভীরে।
কুয়াশার ভিতর দাঁড়িয়ে থাকে ভবিষ্যৎ-
আলোহীন, নামহীন।
