কত রোহিঙ্গার নাম কাটা গেল বিহারে, উত্তর নেই

কত রোহিঙ্গার নাম কাটা গেল বিহারে, উত্তর নেই

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


 

বিহারে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গিয়েছে ৬৫ লাখের নাম। তার মধ্যে বিদেশি অনুপ্রবেশকারী ক’জন? উত্তর নেই। মুখ খোলেনি নির্বাচন কমিশন। স্পিকটি নট কেন্দ্রীয় সরকার। ক’জন বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী? জানা নেই। রোহিঙ্গা ক’জন? নেপালি ক’জন? জানা নেই। কারণ জানানো হয়নি।

এসআইআর-এর পর খসড়া, তারপর ৩০ সেপ্টেম্বর ফাইনাল তালিকা বেরিয়েছে বিহারে। তারও পরে হয়ে গেল ভোট। ধরে নেওয়া যেতে পারে, ঝাড়াই-বাছাই করে একেবারে খাঁটি ভোটারদের নাম ধরে ধরে হয়েছে বিধানসভার ভোট। অনুপ্রবেশকারীদের নাম সব বাদ গিয়েছে।

মোটামুটি যে হিসেব কমিশনের কাছ থেকে মিলেছে, তাতে ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আছে মৃত ভোটারদের নাম। আছে ঠিকানা বদলে অন্যত্র চলে যাওয়াদের নাম। একবারের বেশি নাম রয়েছে, এমন ভোটাররাও আছেন। আর থাকার কথা অযোগ্যদের। এই অযোগ্যদের মধ্যে আছেন তাঁরা, যাঁরা এদেশের নাগরিক নন। দেশের আইনেই তাঁরা ‘অযোগ্য’।

এবারের ভোট তা নিয়ে ছিল সরগরম। বিজেপি চিৎকার করে পাড়া মাথায় করেছিল এদের নিয়ে। দেশ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীতে ছেয়ে গিয়েছে, ফলে দেশের জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে ইত্যাদি ছিল তাদের ভোট প্রচারের অন্যতম মূল ধুয়ো। সভায় সভায় বিজেপির মান্যগণ্যরা বলে এসেছেন, লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি মুসলমান, রোহিঙ্গা বিহারের ভোটার লিস্টে ঢুকে পড়েছেন।

বিহারে এসআইআর শুরু হওয়ার মাসখানেকের মধ্যে কমিশন জানিয়েছিল, নিবিড় সংশোধন করতে গিয়ে বাংলাদেশ, মায়ানমার আর নেপাল থেকে আসা ‘ঘুসপেটিয়া’-দের খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। বিহারে ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, ‘মুঝে বাতাইয়ে কেয়া বিহার কা ভবিষ্য আপ তয় করেঙ্গে, কি ঘুসপেটিয়া তয় করেগা।’ বিহারের ভবিষ্যৎ আপনারা ঠিক করবেন না অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ঠিক করবে, এটা আপনারা বলুন।

তাঁর ডেপুটি অমিত শা জানিয়েছেন, বিহারের ভোটার লিস্ট থেকে ‘ঘুসপেটিয়া’-দের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের তিনি ঘুণপোকা বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। বেশ তো, যত অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের সংখ্যাটা কত? নির্বাচন কমিশন মুখ বন্ধ রাখলেও তাঁদের খোঁজ করেছেন সাংবাদিকরা। গোদি মিডিয়ার এসব নিয়ে কোনও মাথাব্যথা না থাকলেও বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ভোটার তালিকায় ‘অযোগ্য’ খুঁজেছে।

সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়্যার-এর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, অযোগ্যদের সংখ্যা নামমাত্র। যে অপটিকাল ক্যারেকটার রিকগনিশন পদ্ধতিতে কমিশন অযোগ্য বেছেছে, তাতে ভুলের সম্ভাবনা ০.০০০৬ শতাংশ। তাতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৯৫০০ জনকে কমিশন অযোগ্য বলে জানিয়েছে। মোট বাদ যাওয়াদের মধ্যে অযোগ্য রয়েছে ০.০১২ শতাংশ।

ওয়্যার-এর রিপোর্ট বলছে, অযোগ্যদের ৮৫ ভাগই বিহারের সীমাঞ্চলের চারটি জেলা- সুপৌল, কিশনগঞ্জ, পূর্ব চম্পারণ ও পশ্চিম চম্পারণের বাসিন্দা। এই জেলাগুলি নেপাল লাগোয়া। নেপালিদের সঙ্গে বিহারিদের বিয়ে-শাদি ওখানে জলভাত। নেপাল থেকে আসতে যেতে পাসপোর্ট লাগে না। ফলে অনুপ্রবেশ এখানে খাটে না। আগের ভোটেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন। এখানকার কাগজপত্র তাঁদের রয়েছে। তাঁদের আগে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়নি।

এবার সেসব প্রশ্ন ওঠায় তাঁরা অথই জলে। বিয়ে করে তাঁরা এখন বিহারের বাসিন্দা। একই অবস্থা বাংলা-বিহার সীমানায়। দুই রাজ্যের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক আকছার। বিয়ের পর বিহারে এসে সরকারি অনুদান পেয়েছেন- এমন মহিলার সংখ্যা কম নয়। তাঁদের কেউ কেউ অযোগ্য তালিকায়। কিশনগঞ্জ কেন্দ্রে ১৪০০ আর বাহাদুরগঞ্জ কেন্দ্রে প্রায় ৯০০ নাম ছাঁটাই হয়েছে অযোগ্য বিবেচনায়। কিশনগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত খুব বেশি দূরে নয়। বাদ পড়াদের একটা বড় অংশ বাংলাভাষী পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক।

বাকি রইল রোহিঙ্গা। বাংলার পদ্মের তিনপোয়া নেতারা কেউ তারস্বরে এক কোটি, কেউ এক কোটি বিশ লাখ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিমের কথা শোনাচ্ছেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই। বিহারেও বাংলাদেশিদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা গিজগিজ করছে বলে শোনানো হচ্ছিল। ঠিক কত রোহিঙ্গা আছেন গোটা দেশে? চল্লিশ হাজারের মতো। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই তথ্য জানিয়েছে। রোহিঙ্গারা অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে রয়েছেন বলে সেই হলফনামায় জানানো হয়েছিল। দিল্লি, হরিয়ানাতেও বস্তি অঞ্চলে আছেন বলা হয়েছিল।

কিন্তু বিহারে? না, এমন কিছু শীর্ষ আদালতে জানায়নি অমিত শা’র মন্ত্রক। নির্বাচন কমিশন বিহারে কত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর নাম কাটা গিয়েছে, তা নিয়ে নীরব। বেসরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা নাকি মাত্র তিন। কে জানে! সে যাই হোক, আমরা চাই রাজনীতি ছেড়ে প্রকৃত ভোটারদের বেছে নেওয়া হোক। অযোগ্যরা বাদ যাক। কিন্তু কোনও বিশেষ সম্প্রদায়কে বেছে নিয়ে গরিব খেটেখাওয়া বৈধ হতদরিদ্রকে যেন তাড়িয়ে না দেওয়া হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *