‘ওদের হৃদয়ে ঘৃণার বিষ’, ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় অভিবাসীদের বিঁধলেন ট্রাম্প

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


মূল্যবৃদ্ধি-সহ একাধিক ইস্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এখন সহিংস আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের ট্রাম্পের দাবি, এর জন্য দায়ী ইউরোপের শরণার্থী তথা অভিবাসী সমস্যা। তিনি মন্তব্য করলেন, ওদের (অভিবাসীদের) হৃদয়ে রয়েছে ঘৃণার বিষ। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংস হয়ে যাবে এক সময়ের মহান দেশ।

সপ্তাহব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভ ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশে’। রাজধানী প্যারিস-সহ বিভিন্ন শহরে মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। চলছে অবাধ ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু শনিবার রাতে জানান, সহিংসতার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ রুখতে গিয়ে আহত হয়েছেন ১৫০ জনের বেশি পুলিশকর্মী। এই পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত থেকে আসা মানুষ, যাদের হৃদয়ে রয়েছে ঘৃণার বিষ, তারা একসময়ের মহান এই দেশটিকে চুরমার করে দিয়েছে। আরও দেরি হয়ে যাওয়ার আগে সীমান্ত বন্ধ করুন। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আনুন!”

আরও পড়ুন:

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিজিটি শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, দেশজুড়ে পথে নেমেছিলেন ৮ লাখের বেশি মানুষ। জনতার বিক্ষোভে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে লিমোজ শহরের ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো ঐতিহ্যশালী টাউন হল। ঐতিহাসিক ভবনটি দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়ও টিকে ছিল। এবার মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের লাগানো আগুনে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেল। ঐতিহাসিক ভবনটিতে আগুন লাগানোর আগে লুটতরাজ চলে বলেও খবর। বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে রুখতে পারেনি মুষ্টিমেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী।

আরও পড়ুন:

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পালটা বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল-সহ হাতের কাছে যা পেয়েছেন তাই ছুড়তে শুর করে। ছোড়া হয় আতসবাজিও। দক্ষিণাঞ্চলীয় সাঁ-এতিয়েন শহরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের ডান হাত উড়ে যায়। প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ-সহ বিভিন্ন শহরের সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, শৌখিন পণ্যের দোকান, পোশাকের শোরুম, চশমার দোকান ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ফ্রান্সের অগ্নিগর্ভ অবস্থায় শাসক দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও মাস ছয়েক বাদেই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল সরকার। আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি বাছার বিষয়টি এখন বিশ বাঁও জলে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *