বিস্ময় প্রতিভা শব্দটা বোধহয় এখন বড্ড কমতি পড়ে যাচ্ছে বৈভব সূর্যবংশীর জন্য। অভিধান খুলে দেখা যেতেই পারে, এর চেয়ে ভালো শব্দ আর কী আছে? নাহলে যে কৃতিত্বের জন্য ক্রিকেটাররা বহুদিন প্রতীক্ষা করেন, তা ১৫ বছর বয়সেই অর্জন করে ফেলেছে বৈভব। এবারের আইপিএলে তার ঝুলিতে সাফল্যের পর সাফল্য। সঙ্গে নজিরের পর নজির। শুধু ট্রফিটা বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত প্রায় সব খেতাবই রাজস্থান রয়্যালসের তারকার ঝুলিতে।
এই বিষয়ে আরও খবর
৫ বছর বয়সে যা যা করা সম্ভব নয়, তার সব কটা করেছে সে। ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান। গড় ৪৮.৫০। ৭২টা ছক্কা। চারবার ম্যাচের সেরা। এলিমিনেটরে ৯৭, কোয়ালিফায়ারে ৯৬। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস। তাও একটা নয়, দু’টো নয়। তিনটে সেঞ্চুরি নয়ের ঘরে গিয়ে মিস করেছে। ধীরেসুস্থে খেললে হয়তো সেঞ্চুরি পেয়ে যেত। কিন্তু দলের স্বার্থকে এগিয়ে রেখে রান করতে গিয়েই আউট হয় সে।
এবার কী কী পুরস্কার পেল বৈভব? ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ পেল। যার জন্য পাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামি প্লেয়ার হিসেবে হল এমভিপি। তার জন্য পাবে ১৫ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট- ২৩৭। তার জন্য পাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে বেশি ছয়ও হাঁকিয়েছে সে। ৭২টি ছক্কা মেরে ১০ লক্ষ টাকা পাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টের সেরা উঠতি প্রতিভা, অর্থাৎ ইমার্জিং প্লেয়ারও হয়েছে সে। যার জন্য পাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে পেল ৪৫ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে একটা গাড়ি। চারটে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

শুধু টাকা আয় নয়। অনেকগুলো রেকর্ডও ভেঙেছে বৈভব। টুর্নামেন্টের সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে অরেঞ্জ জয়ী সে। আনক্যাপড অর্থাৎ জাতীয় দলে অভিষেক না হওয়া ক্রিকেটার হিসেবে এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি রান করেছে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর নজিরও তার নামে। প্লেঅফেও সবচেয়ে বেশি ছক্কা। যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতরান (১৬ বলে) হোক বা এক মরশুমে তিনবার ১০টির বেশি সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র ক্রিকেটার। ১৫ বছর বয়সেই বহু নজির গড়ে ফেলেছে সে। এবার শুধু ট্রফিটাই জেতা হল না।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
