পুজোর দিনগুলিতেও চলবে আন্দোলন। এমনটাই জানালেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ছাত্ররা। এ দিকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে পাঠদান। হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ মেস পরিষেবাও। বহিষ্কৃত ছয় ছাত্র। বহিষ্কৃত ছাত্রদের বিরুদ্ধে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপর শারীরিক নিগ্রহ, উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগ। সব মিলিয়ে এসআরএফটিআই-এ পড়ুয়া-কর্তৃপক্ষ সংঘাত চরমে!
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে ক্লাস বয়কট শুরু করেন। ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের গেটের বাইরে অন্য একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এখনও সেই অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। এ দিন ষষ্ঠীর দুপুরে পড়ুয়ারা জানান, ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার বদলে কর্তৃপক্ষ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছেন। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, হস্টেল সংকট সমাধান এবং বৈষম্যের অভিযোগের সুরাহা না করেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন:
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে চলেছে। কর্তৃপক্ষের এই একতরফা ও শাস্তিমূলক আদেশের বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁরা পুজোর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উপাচার্যের দাবি, নিয়ম লঙ্ঘন ও তাঁর দপ্তরের হামলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
