একটানা ভূমিধসে লন্ডভন্ড গোটা গ্রাম! অস্তিত্ব সঙ্কটে সিকিমের রিম্বি

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


অস্তিত্ব সঙ্কটে পশ্চিম সিকিমের পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং জেলার রিম্বি গ্রাম। দু’মাস থেকে ভূমিধস ও কাদা ধসে লণ্ডভণ্ড গোটা এলাকা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ ও মাটি নিচে নেমে আসায় আশেপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ভূমিধস থামার কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। গ্রামটি বসবাসের অযোগ্য ঘোষণার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সিকিম জুড়ে ৬৮৮টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে ভূমিধসের ঝুঁকির জন্য বৃষ্টিপাত, পাহাড়ের ঢালের কোণ, ভূতাত্ত্বিক গঠন, মাটি, জল নিকাশি ব্যবস্থা, নদী থেকে দূরত্ব এবং ভূগর্ভস্থ জল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আরও পড়ুন:

সোমবারও ব্যাপক ভূমি ও কাদা ধসে তলিয়েছে রিম্বির একাংশ। প্রায় দু’মাস ধরে এখানে ভূমিধসের তাণ্ডব চলছে। রিম্বি-ইউকসম সড়ক-সহ বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়েছে। এলাকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেন ওই পরিস্থিতি প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। গবেষকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানিয়েছেন, রিম্বি-ইউকসম এলাকার পাহাড়ি ঢাল ফাটলযুক্ত ও জোড়বদ্ধ শিলাস্তরের উপর মাটি দিয়ে তৈরি। এই ধরনের ভূখণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন একটানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জল মাটিতে প্রবেশ করে এবং নিচের শিলাস্তরে ফাটল ধরায়। ঢালের মধ্যে জলের চাপ বেড়ে গেলে স্থিতিশীলতা কমে যায়। একবার ভূমির সরণ শুরু হলে বিপুল পরিমাণ মাটি, ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা এবং বড় বড় পাথর ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। সেটাই এখন চলছে। আগস্ট মাস থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়ের নিচের বসতি এলাকায় নতুন করে মাটি সরে আসা ও ধসে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

ভূমিধস ও কাদা ধসে লণ্ডভণ্ড গোটা এলাকা।

সিকিমের ভূমিধস সংক্রান্ত সরকারি তালিকায় ইউকসম ও রিম্বির মধ্যবর্তী ‘মেলি স্লাইড’-কে সক্রিয় ভূমিধস এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে মাটি ও পাথর অর্থাৎ কোয়ার্টজাইট ও ফাইলাইট-এর মিশ্র স্তর রয়েছে। এর নথিভুক্ত গড় গভীরতা প্রায় ২০ মিটার এবং ধসে পড়া অংশের আনুমানিক আয়তন প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার ঘনমিটার। তালিকায় অত্যন্ত ফাটলযুক্ত ও দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠনকে এই ভূমিধসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সিকিম জুড়ে ৬৮৮টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে ভূমিধসের ঝুঁকির জন্য বৃষ্টিপাত, পাহাড়ের ঢালের কোণ, ভূতাত্ত্বিক গঠন, মাটি, জল নিকাশি ব্যবস্থা, নদী থেকে দূরত্ব এবং ভূগর্ভস্থ জল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভূমিধসের লক্ষণগুলো ২০২৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আপার রিম্বি-ইয়াংথাং এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসে চারজনের মৃত্যু এবং তিনজন নিখোঁজ হয়। এবার প্রাণহানি না-হলেও অন্তত ৩২টি বাড়ি ও চারটি সরকারি কোয়ার্টার কাদায় তলিয়েছে। বারবার হড়পা বান ও ভূমিধসের ফলে গ্রামের উপরের দিকে ‘সিংলিটাম’ পাহাড়ের মাটি অস্থিতিশীল হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে আশপাশের ভূখণ্ড ক্রমশ ধসে পড়ছে এবং এলাকাটিতে প্রায়দিন ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। স্বভাবতই গ্রামটির অস্তিত্বের সঙ্কট ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *