তাঁর দলের একাধিক কর্মী পুরনো মামলায় এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার। তাঁকেও পুলিশি জেরার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগামী ৬ তারিখের রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে ক্রমশ রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। সেই আবহে এবার দিল্লি গিয়ে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন হুমায়ুন কবীর? উপনির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তুললেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে এবার তিনি সরাসরি দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। পাশাপাশি দেখা করবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের সঙ্গেও।
হুমায়ুনের অভিযোগ, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর লাগাতার অত্যাচার, বিনা কারণে হেনস্থা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দমন-পীড়ন চরমে উঠেছে। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বদলে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে ভোট লুটের চেষ্টা চলছে বলে তাঁর দাবি। আজ, শুক্রবার হুমায়ুন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই তিনি দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কেন দিল্লি গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন? তাহলে কি তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হতে পান? হুমায়ুন জানিয়ে দেন, বিজেপি বা অন্য কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন না। নিজের ছ’মাসের সদ্যজাত দলকে স্বতন্ত্র রেখেই তিনি এই লড়াই চালাতে চান। তাঁর কথায়, “বিগত তৃণমূল সরকার দুর্নীতি করেছে, চাকরি চুরি করেছে। কিন্তু ভোট লুট করেনি। করলে বর্তমান সরকার এত আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে পারত না।” তাঁর প্রশ্ন, “ভারতের এতগুলো রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বাংলায় এসেছে। তাহলে একটি উপনির্বাচন জিততে সর্বশক্তি দিয়ে ভোট লুটের দরকার কী? এই প্রশ্নই আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রাখব।”
জিতুন-হারুন, পুজোর মরশুমেই তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। দেখা করবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, শ্রী প্রকাশের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বাংলায় মুসলিমদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, নির্বাচনী বিধিও মানা হচ্ছে না! সেসব কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিরোধী জোটের রূপরেখা তৈরি করতে চান। সেই ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে তাঁর এই বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
