উত্তরের সাহিত্যক

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


  • পার্থসারথি ঝা

মালদা জেলার ভূমিপুত্র পার্থসারথি ঝা’র জন্ম ১৯৫২ সালে শোভনগর গ্রামে। গ্রামের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা এবং মিল্কি উচ্চবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পড়াশোনা। মালদা কলেজ থেকে স্নাতক এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের প্রথম পর্যায়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ দপ্তরে কাজ। পরে ১৯৮২ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। ক্রমে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পদে উন্নীত হন। ২০১২ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে মালদা শহরেই স্থায়ীভাবে বসবাস।

সংসার জীবনের মাঝেই তাঁর লেখালেখির শুরু। সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ পরিক্রমায় এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ১৫টি কাব্যগ্রন্থ, দুটি উপন্যাস, তিনটি শিশুতোষ কাব্য, পাঁচটি ভ্রমণকাহিনী, দুটি গল্পগ্রন্থ ও দুটি জীবনীমূলক গ্রন্থ। অতি সম্প্রতি নিজের জন্মভূমিকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ত্রিশতম গ্রন্থ ‘সার্ধশতবর্ষের আলোকে শোভনগর গ্রাম’। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ ‘নিদ্রাহীন রাত্রির ডানা থেকে’, উপন্যাস ‘ঢাকি’, ভ্রমণকাহিনী ‘কালাপানির দেশে’ এবং ছোটদের গল্পের বই ‘পালানী ও চেনাগলপুটু’।

সাহিত্য সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাহিত্যপত্রের সম্পাদনাও করেছেন। সাহিত্যের নানা ধারায় তাঁর সাবলীল বিচরণ। তাঁর লেখা রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ, শারদীয়া প্রতিদিন ও কথাসাহিত্য ছাড়াও বাংলাদেশ ও কানাডার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের আয়োজনও করেন। বাংলাদেশের কাজী নজরুল ইসলাম পদক, চট্টগ্রামের একুশে পদক, কালিনী আজীবন সাহিত্যকৃতি, দীপশিখার স্মৃতি পুরস্কার, লক্ষ্মী নন্দী স্মৃতি পুরস্কার এবং কবি নুরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার সহ বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

প্রকৃতির প্রতি তাঁর অমোঘ টান। নিজেই হাসতে হাসতে বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের ভাঙা জানলা গলে নিত্যদিন পাশে বয়ে চলা কালিন্দী নদীর কিনারায় বসে মনের সঙ্গে কথা বলতাম।’ সেই টানেই দেশ-বিদেশের বহু জায়গা ভ্রমণ করেছেন। নানা সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তিনি গীতিকারও বটে। তাঁর লেখা আধুনিক, বাংলা ব্যান্ড ও ভাওয়াইয়া গান বিভিন্ন সংগীতশিল্পীর কণ্ঠে শোনা গিয়েছে। পার্থসারথির বিশ্বাস, প্রকৃতিকে যাঁরা ভালোবেসেছেন, তাঁরা কখনই অসৎ হতে পারেন না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *