আরেক দোসরায় নভেম্বরের শাপমুক্তি, রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বিশ্বজয়ী ভারত

আরেক দোসরায় নভেম্বরের শাপমুক্তি, রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বিশ্বজয়ী ভারত

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


ভারত: ২৯৮/৭ (শেফালি ৮৭, দীপ্তি ৫৮, খাকা ৫৮/৩)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪৬/১০ (লরা ১০১, ডের্কসেন ৩৫, দীপ্তি ৩৯/৫)
ভারত ৫২ রানে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৫ সালের ফাইনালে হয়নি, ২০১৭ সালে হয়নি। কিন্তু সব ‘হয়নি’র শেষ আছে। তার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। হার না মানা মানসিকতা দরকার। একদিনে হয়নি, তবে একদিন ঠিক হল। নবি মুম্বইয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল ভারত। ৫২ রানে জিতে বিশ্বজয় হরমনপ্রীত কৌরদের। এই প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতল ‘উইমেন ইন ব্লু’।

মুম্বইকে বলা হয় মায়ানগরী। কত স্বপ্ন এখানে সফল হয়। এই মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২০১১ সালে ২ এপ্রিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ হাতে তুলেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। আবার ২০২৩ সালে এরকমই একটা নভেম্বর মাসে স্বপ্ন ভেঙেছিল রোহিত শর্মাদের। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সেই হার আজও দেশবাসীদের হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধে আছে। কিন্তু প্রতিটি ১৯ নভেম্বরের বদলা একটা দোসরা থাকে। সেটা ২ এপ্রিল হতে পারে বা ২ নভেম্বর। যেমন এদিন হল।

টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলফার্ট। বৃষ্টিভেজা মুম্বইয়ে ধীর লয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মারা। কিছুক্ষণের মধ্যে রানের গতিও বাড়ান দুজনে। ১৮ ওভারের মধ্যে ১০০ রানের পার্টনারশিপও গড়ে ফেলেন। তারপরই ধাক্কা। ক্লোয়ি ট্রায়নের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্মৃতি (৪৫)। যদিও ভারতের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান শেফালি। মাঝে ক্যাচ পড়ে জীবনদান পেয়েছেন। কিন্তু ৭৮ বলে ৮৭ রানের যে ইনিংসটা ‘হরিয়ানা কি ছোড়ি’ খেলে গেলেন, সেটা রীতিমতো বাঁধিয়ে রাখার মতো ঝকঝকে। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে খেলেও সেঞ্চুরি পেলেন না।

অন্যদিকে রান পেলেন না সেমিফাইনালের ‘মহানায়িকা’ জেমাইমা রডরিগেজ (২৪)। ব্যর্থ হলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত (২০)। তবে পড়তে থাকা রানের গতিকে বাড়িয়ে দেন রিচা ঘোষ। এদিন ২৪ বলে করলেন ৩৪ রান। দীপ্তি হাফসেঞ্চুরি করলেও একেবারেই ঝুঁকি নিলেন না। অন্যদিকে রিচাকে কেন ৭ নম্বরে নামানো হল সেটাও প্রশ্ন? সব মিলিয়ে ভারত থামল ২৯৮ রানে। যেটা কিন্তু অনায়াসে আরও ২৫-৩০ রান বাড়তে পারত।

সেটা ‘ফ্যাক্টর’ যেতে পারত। বিশেষ করে বিপক্ষ দলে যদি লরা উলফার্টের মতো ব্যাটার থাকেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। ফাইনালে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি করে গেলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের পর এই ম্যাচেও সেঞ্চুরি হাঁকালেন। রেণুকা সিং থেকে শ্রী চরণী, কোনও বোলারই লরাকে বিপদে ফেলতে পারেননি। প্রথম থেকে মাটি কামড়ে পড়ে রইলেন। যদিও তাঁর ওপেনিং জুটি তাজমিন ব্রিটসের (২৩) রানআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ধাক্কা পায়। কিছুক্ষণ পরেই আনেকে বশকে (০) ফেরান শ্রী চরণী। কিন্তু সুনে লুসকে নিয়ে দিব্যি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন লরা। তাহলে উপায়? হরমনপ্রীত বোলিংয়ে নিয়ে এলেন শেফালিকে। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েছিলেন। বোলিংয়ে প্রায় পরপর দুটি উইকেট তুললেন। সুনের উইকেটের পর ফেরালেন বিপজ্জনক মারিজান ক্যাপকে।

তারপরও বিপদ কমেনি। রাধা যাদবের ওভারে ১৭ রান উঠল। ডের্কসেন রীতিমতো ঝড় তুলে দিলেন। অন্যদিকে লরা উলভার্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। ম্যাচ কি ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর ছিল অমনজ্যোতের হাতে। দীপ্তি শর্মা এর আগে ডের্কসেনকে (৩৫) ফিরিয়েছেন। তারপর তাঁর বলকে আকাশে তুললেন লরা। সেটা সোজা অমনজ্যোতের হাতে। না, তিনি প্রথম সুযোগে ধরতে পারলেন না। হাত থেকে বল মিস হল, দ্বিতীয়বারও তাই। তৃতীয়বার এক হাতে বল ধরলেন। আসলে যেন ১৪০ কোটি ভারতবাসীর হৃৎপিণ্ডটা লুফে নিলেন। লরা (১০১) ফিরে যাওয়ার পর আর তেমন কেউ ছিল না যিনি ভারতের রাস্তা আটকে পারেন। সেটা আর হয়ওনি। অন্যদিকে হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতে ৫ উইকেটও তুললেন দীপ্তি। সব মিলিয়ে স্মৃতি-হরমনপ্রীতরা চ্যাম্পিয়ন। নভেম্বরে শাপমুক্তিতে বিশ্বজয় ভারতের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *