বিটাউনের ব্যস্ততম অভিনেতাদের মধ্যে একজন সলমন খান সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশের কোনও জায়গা নেই। হাতে একগুচ্ছ কাজ, শুটিংয়ের চরম ব্যস্ততার মাঝেও সোশাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই উঁকি মারেন। রবিবাসরীয় ছুটির দিনে কখনও পোষ্যকে জড়িয়ে আদুরে মুহূর্তে ধরা দিয়েছেন তো কখনও আবার সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে টুপি পরে গাড়িতে বসে ক্যামেরাবন্দি ভাইজান। অন্যদিকে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট অর্থাৎ সলমন খানের বাসভবনের বাইরে গুলি চালার ঘটনার মামলা চলছে। এর মাঝেই ‘ভাই’ সুশীল কুমারকে হারালেন বলিউডের ভাইজান।
সোশাল মিডিয়ায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন সলমন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সুশীলের সঙ্গে ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। দীর্ঘ ৪২ বছরের বন্ধুত্বে ইতি। ভাইসম বন্ধুর মৃত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন সলমন, তবে তাঁর আদর্শকে সঙ্গী করেই জীবন কাটানোর অঙ্গীকার ভাইজানের। চারদশক পুরনো বন্ধুকে হারিয়ে স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়েছেন সলমন। সমাজমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে লেখেন, ‘দীর্ঘ ৪২ বছরের বন্ধুত্ব। তোমার মতো দয়ালু, ভালো মনের মানুষ খুব কম দেখেছি যাঁর মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকত। জীবনে যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন হাসিটা কখনও বিলীন হয়ে যেত না।’
আরও পড়ুন:
অভিমানী সলমন বন্ধুর উদ্দেশে বলছেন, ‘যাঁর যাওয়ার এত তাড়া তাঁকে আটকানো উচিত নয়। একদিন তো প্রত্যেককেই যেতে হবে। আর ভালো মানুষরা বেশি তাড়াতাড়ি চলে যায়। ভালো মানুষরা খুব তাড়াতাড়ি ভগবানের প্রিয় হয়ে যায়। এই পৃথিবী ছেড়ে তুমি আনন্দে থাকো।’
সুশীলের স্মৃতিতে ভেসে আরও যোগ করেন, ‘মনোকষ্ট হোক বা আর্থিক কষ্ট, জীবনে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে এই বিশ্বাসেই ভর করে চলতে। বিদায় ভাই, তুমি প্রকৃত মানুষের মতো জীবনটা উপভোগ করেছ। একজন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচেছ। তোমার জন্য চোখে জল নয়, থেকে যাবে স্মৃতি আর মুখের হাসিটুকু।’
বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা ভাগ করে ভাইজানের সংযোজন, ‘এভাবেই তোমার যাওয়া উচিত ছিল। কেউ আগে কেউ পরে, সবাই একদিন যাবো। তবে কখন আর কীভাবে সেটা জানি না। তবে যাওয়ার আগে কিছু করে যাও। এখন নিশ্চিন্তে সিগারেট আর হুইস্কি উপভোগ করো, চিয়ার্স, ভাই। তোমাকে মিস করব।’ পুরনো ছবি শেয়ার করে সলমনের আপশোস, ‘সবকিছু তো ঠিকই চলছিল। তোমার স্ত্রীকে বলে দিও তাঁর দেখভালের জন্য একজনকে তুমি রেখো গিয়েছ। তোমাকে হারিয়ে আমি কান্নাকাটি করতে পারতাম, সোশাল মিডিয়ায় আত্মার শান্তি কামনাও করতে পারতাম। কিন্তু, আমি সেসব কিছু করিনি। কারণ আমি তোমাকে কোনওদিন অন্তর থেকে বিদায় জানাতে পারব না। যা হয়েছে সেটা তো অস্বীকার করতে পারব না, তবে তুমি আমার লিভার আর কিডনিটা খারাপ করবে।’
নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে অভিমানী সলমন বন্ধুর উদ্দেশে বলছেন, ‘যাঁর যাওয়ার এত তাড়া তাঁকে আটকানো উচিত নয়। একদিন তো প্রত্যেককেই যেতে হবে। আর ভালো মানুষরা বেশি তাড়াতাড়ি চলে যায়। ভালো মানুষরা খুব তাড়াতাড়ি ভগবানের প্রিয় হয়ে যায়। এই পৃথিবী ছেড়ে তুমি আনন্দে থাকো।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
