অ্যাকশন মোডে স্বাস্থ্যদপ্তর! শনিবার মাঝরাতে শহরের পাঁচ সরকারি হাসপাতালে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের। শুক্রবার এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই শহরের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসচিবের ঝোড়ো সফর। বার্তা খুব স্পষ্ট স্রেফ কথা নয়, বাংলার নতুন সরকার কাজ চায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যসচিব। অত রাতে স্বাস্থ্যসচিবকে দেখে হকচকিয়ে যান অনেকেই। রাত প্রায় ১২টার নাগাদ ব্লু রঙের টি-শার্ট পরে তিনি যান আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে। ছিলেন অধ্যক্ষ মানসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপার সপ্তর্ষী চট্টোপাধ্যায়, সহকারী সুপার দৈপায়ন বিশ্বাস। ট্রমাকেয়ার থেকে একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। যান জেনারেল মেডিসিন, সার্জারি বিভাগেও। কথা বলেন রোগীদের সঙ্গে। কারও কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, সেই খোঁজ নেন। শেষে বৈঠক করেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও সুপারের সঙ্গে। স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশ কোথাও যেন ময়লা পড়ে না থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুম পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
রাতেই তিনি যান নীলরতন সরকার মেডিক্যালে। যান ন্যাশনাল মেডিক্যাল ও এসএসকেএমেও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের সঙ্গে মিটিং করেন। ওই হাসপাতালে যারা বাইরে ছিল, বেড পাননি, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলে দ্রুত তাঁদের বেড দেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব। পাশাপাশি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাইভ বেড স্ক্রিনিংয় ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারি কোন হাসপাতালে কত বেড খালি সেটাও এই লাইভ স্ক্রিনে দেখা যাবে। প্রতিটি হাসপাতালে পানীয় জলের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন তিনি। সেই জল পানের উপযোগী কি না, তা প্রতিমাসে তা দেখতে বলেছেন। কলকাতা পুরসভাকে প্রত্যেক সপ্তাহে পানীয় জলের মান পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব।
উল্লেখ্য, শুক্রবার এসএসকেএমের একাডেমিক ভবনে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাজ্যের সব হাসপাতালে দালালরাজ রুখতে একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। একজন রোগীও যেন ফিরে না যান, রেফার রোগ সারাতে একাধিক দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। তারপরই স্বাস্থ্যসচিবের সারপ্রাইজ ভিজিট।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
