অভিযুক্ত বিডিও কমিশনের বৈঠকে

অভিযুক্ত বিডিও কমিশনের বৈঠকে

শিক্ষা
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার ও দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি ও কলকাতা: সোনা চোর ধরতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীকে খুন করা তো দূরের কথা, রাজগঞ্জের বিডিও’র নাকি কোনও সোনাই চুরি হয়নি। তাঁর কোনও বাড়ি নেই বলেও দাবি করেন প্রশান্ত বর্মন নামে ওই বিডিও। তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর শুক্রবার প্রথম তাঁকে সরকারি কাজ করতে দেখা গেল প্রকাশ্যে। পুলিশ এখনও তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেনি।

জলপাইগুড়িতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, ‘আমাকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, চক্রান্তকারীরা কিছুই করতে পারবে না।’ সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বপন কামিল্যা নামে যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানায়, তাঁকে তিনি চেনেনই না বলে জানান তিনি।

প্রশান্তর স্পষ্ট কথা, ‘আমার কোনও স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে চেনা নেই। আমার প্রাসাদের মতো বাড়িও নেই। আমার সোনাদানা কিছু চুরি হয়নি। আমার ফুটেজ কালচিনি থেকে শুরু করে রাজগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। কিন্তু যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে, তা তৈরি করা। আজকের দিনে অনেক কিছুই তৈরি করা যায়।’ যদিও ওই ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে।

তিনি নিহত স্বপনের বাড়িতে বা দোকানে কখনও যাননি বলেও দাবি করেন। এমনকি, নিউটাউনে তাঁর বাড়ির কর্মী বলে পরিচয় দেওয়া যে অশোক কর তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে, তাঁকেও তিনি চেনেন না বলে প্রশান্ত দাবি করেন। রাজগঞ্জ ব্লকে ঠিকাদাররা ইতিমধ্যে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি তোলায় তিনি রুষ্ট। বিডিও’র দাবি, ‘আমি কাজে ঠিকাদারদের দুর্নীতি বন্ধ করেছি, ওঁদের সমিতি গঠন আটকে দিয়েছি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন ওঁরা।

তাঁর অভিযোগ, ‘অনেকে নিজের স্বার্থরক্ষায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য একশ্রেণির মানুষ মিডিয়াকে লেলিয়ে দিচ্ছেন।’ সেই চক্রান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সেই বিষয়ে অবশ্য কিছু বলতে চাননি বিডিও। যদিও তাঁর বক্তব্য, ‘আমি চাই, ফুটেজের সত্যতা যাচাই হোক। তদন্ত হোক। তাহলেই দুধ ও জল এক নয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। অনেকে অনেককে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে বলানোর চক্রান্ত করছেন।’

তাঁকে কয়েকবার বদলি করা হলেও সেই আদেশ স্থগিত হয়ে গিয়েছে। সেই ব্যাপারে বিডিও’র কথায়, ‘আমার রাজগঞ্জে বিডিও পদে থাকার সময় এখনও শেষ হয়নি। অনেকের বদলি আটকে গিয়েছে। শুধু আমার বদলি নিয়ে এত কিছু বলা হচ্ছে কেন! তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। প্রশান্ত অবশ্য জানান, তাঁর এলএলবি কোর্স করাই আছে। পিএইচডি’র কাজ শেষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কয়েকদিন পর আমার নামের আগে ডক্টরেট শব্দ বসতে চলেছে। তখন দেখবেন, বিরোধীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়বে।’

অন্যদিকে, বিডিও’র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছে বিজেপি। সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, সরকারি নীলবাতি লাগানো গাড়িতে ওই ব্যবসায়ীকে ধাওয়া করার ছবিতে প্রশান্ত বর্মনকে দেখা গিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এর পরেও পুলিশ পদক্ষেপ না করলে প্রয়োজনে ওই বিডিও’র গ্রেপ্তারের দাবিতে আমরা আদালতে যাব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *