নাটকীয় জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে মুখরক্ষা পাকিস্তানের। বন্ধু বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে রুশ ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান। পরমাণু জ্বালানি নিয়ে আসা এই রুশ বিমান পাকিস্তান ও ভারত হয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকা পৌঁছচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে রওনা দিয়েছে বিমানটি।
শুক্রবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে রওনা হয়েছে। পাকিস্তান ভারতে যাত্রাবিরতি নিয়ে রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। পরে কড়া নিরাপত্তায় তা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। বিমানটির যাত্রাপথ হবে রাশিয়া হয়ে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত এরপর বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বোঝাই একটি বিমান আসার কথা ছিল। সব প্রস্তুতি সারা হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান। যার জেরে সব বানচাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বলা হয়, পাকিস্তানের আপত্তিতেই ইউরেনিয়াম পেল না বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই চরম সমালোচনার মুখে পড়ে পাকিস্তান। অবশেষে অনুমতি দিয়ে মুখরক্ষা করল শাহবাজ শরিফের সরকার। যদিও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক তখন জানিয়েছিল, এটি রাজনৈতিক বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত ছিল না। প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরেই এই জটিলতা তৈরি হয়।
সব প্রস্তুতি সারা হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান। যার জেরে সব বানচাল হয়ে যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের শাসনে ভারত বিরোধীতার হাওয়া বাংলাদেশে চরমে ওঠে। অপরদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বে’র নতুন অধ্যায় শুরু হয় ঢাকার। কিন্তু অভিযোগ ওঠে কার্যক্ষেত্রে ‘বন্ধুত্বে’র সেই মূল্য রাখেনি পাকিস্তান। ইসলামাবাদের আপত্তিতে যথাসময়ে ইউরেনিয়াম পায়নি ঢাকা। এই সমালোচনা এড়াতেই এবার নিজেদের আকাশপথ বাংলাদেশের জন্য খুলে দিল পাকিস্তান।
এদিকে বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে, মোট নয়টি কার্গো বিমানে জ্বালানি আসবে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি। তার প্রথম চালান আজ থেকে শুরু হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকার। কার্গো বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে, সেসব দেশের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছর রাশিয়ার রসাটম জ্বালানি দেবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলছে। নয়টি কার্গোতে জ্বালানি সরবরাহ শেষ হলে দুই ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
