শেষাঙ্কে
অমিতাভ সরকার
আজ অনেকদিন বাদে নিশীথের সঙ্গে দেখা হবে। সে বারে যখন এসেছিলাম, তখনও ও ডিউটিতেই। কাজ পেলে নিশীথ আর কিছু চায় না। আমাকেও চায়নি। কেরিয়ার ওর কাছে সবার আগে। কতবার বোঝাতে চেয়েছি, স্বার্থের জন্য নিজেকে ওইভাবে বিলিয়ে দেওয়াটা- ভুল। অনিশ্চয়তা তো সব সময়েই, জীবনের ছোটখাটো চাওয়াপাওয়াগুলো সব না মিটলে খুব কিছু কি এসে যায়? অর্থ-প্রতিপত্তি, বন্ধুভাগ্য, সুখশান্তি, সুন্দর সংসার- একটা জীবনে এত কিছু একসঙ্গে পাওয়া যায়! নিশীথ মানেনি। বারবারই আমাকে ভুল ভেবে গিয়েছে। আচ্ছা, সত্যিকারের ভালোবাসা বলে পৃথিবীতে সত্যিই কি কিছু নেই? তেমন হলে না হয় …।
মানুষের মন কখন যে কোন ভাবের বাগানে খেপ খেলে বেড়ায়, কিছুই বোঝা যায় না- আর ঘটলও তাই। কীসের মোহে কেন যে ওসব করল, নিজে তো শেষ হলই, অন্যদেরও… সমর্থক মুখগুলো আসল সময়ে সবাই- ফুঁ। বিদেশবিভুঁইয়ে উচ্চশিক্ষিত বোনটাও একদিন রাতে… শোক সহ্য করতে না পেরে বাবা-মাও… কে কাকে সামলায়?
বছর ঘুরতে কোম্পানিও লালবাতি জ্বালল। যেটা বাকি ছিল, এবার সেটাও- জিনিয়ার আইনি নোটিশ। খরচ জোগাড় করতে বাড়িটাও… সহায়সম্বলহীন নিশীথ তারপর থেকেই…
নাহ, ওকে নিয়ে আর কাউকে ভাবতে হবে না। একদিন যে নামে সবাই ভিড় জমাত, তার জন্যে আজ নিছকই করুণা। পাওনাগন্ডা মিটে গেলে পৃথিবীর কাছে জ্যোৎস্নার অনন্ত আকাশও নিতান্তই তুচ্ছ।
নিশীথ এখনও হাসছে। কম দামি মাইক্রোফোনে সেই দরাজ কণ্ঠ … বডি পোস্টমর্টেমে যাবে।
ডুব
স্বপন সিংহ
জগন্নাথবাবু ভারী রসিক মানুষ। আজগুবি ও রকমারি গল্প পরিবেশনায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার।
‘বারাণসীতে গঙ্গার খাল কেটে একটি কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। ওখানে ডুব দিলেই রোগ-ব্যাধি সব ফিনিশ। সাথে উপরি পাওনা হিসেবে এক ডুবে বয়স এক বছর কমে যাওয়া।’
পরান কাকা গল্পটিকে সত্যি ভেবে, একবার ওই জলাশয়ে ডুব দেওয়ার জন্য তাঁর পরানটা ছটফট করতে লাগল। সরকারি চাকরি থেকে বছরখানেক আগে অবসর নিয়েছেন। অবসরের আগে থেকেই ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও আরও নানাবিধ অসুখে ভুগছেন।
-হ্যাঁরে জগা, ওখানে একবার ডুব দিলে কত টাকা লাগব?
-লাখখানেক। এক লাখে এক ডুব। এক ডুবে এক বছর বয়স কইম্যা যাইব।
-তাইলে, দশ বছর কমাইতে গেলে কমপক্ষে দশ লাখ…
-হুম।
-খুব ইচ্ছা হয় দশটা বছর বয়স যদি কমাইতে পারতাম…এত টাকা কই যে পাই?
-এত চিন্তা কীসের? তুমি যে ব্যাংক থাইক্যা পেনশন তোলো, অই ব্যাংকে যাও। অইখান থাইক্যা লোন তুলতে পারবা।
পরদিন সকালসকাল পরান কাকা ব্যাংকে গিয়ে হাজির। ম্যানেজারকে বললেন,
-স্যর, আমার দশ লাখ লোন লাগব।
-এত টাকা দিয়ে কী করবেন?
-ডুব দিমু।
ম্যানেজার পরানবাবুর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে বললেন, ‘লোন হবে না।’
-ক্যা, হইব না ক্যান?
-এখান থেকে লোন নিয়ে অনেকেই ডুব দিয়েছেন। তারা আর ব্যাংকমুখী হন না। লোন নেওয়ার আগেই ডুব মারার কথা বলার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
The publish অণুগল্প appeared first on Uttarbanga Sambad.
