নিশ্চিন্ত
পার্থসারথি মহাপাত্র
স্ত্রী বললেন, ‘কেমন যে মেয়ের বাবা হয়েছ কে জানে। বারবার বললাম মেয়ে বড় হয়েছে বিয়ের ব্যবস্থা করো। তা নয়, মেয়ে আগে চাকরি করুক, স্বাবলম্বী হোক। এমন স্বাবলম্বী হল যে পাড়াপ্রতিবেশী ছিছি করছে।’
স্বামী উত্তর দিলেন, ‘আমাদের মেয়ে পাড়াপ্রতিবেশীর কার বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দিল?’
– আমাদের। তোমার মেয়ে আমাদের বদনাম করে দিল। পাড়াপ্রতিবেশীর কথা আর কানে নিতে পারছি না।
– কোম্পানির চাকরি, রাত করে বাড়ি ফিরতেই পারে। তাতে বদনামের কী আছে।
স্ত্রী আবার বললেন, ‘বড় হয়েছে, চাকরি করে। একটা ছেলের সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা হতেই পারে। তা বলে রোজ রোজ নতুন ছেলে!’
স্বামী ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, ‘কী উলটোপালটা বলছ?’
– আমি বলিনি। চিন্টুর মা আজ বিকেলে কত কথা শুনিয়ে গেল। ও নাকি রোজ আড়াল থেকে দেখে। তোমার মেয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন ছেলে বন্ধুর বাইকে চেপে আসে। মোবাইলে মেসেজ শেয়ার করে। ছিছি মেয়েটার জন্য কাল থেকে মুখ দেখাতে পারব না।
– হা হা হা। ওরা ছেলে বন্ধু নয়। ওরা বাইকওয়ালা। পুরুলিয়ায় নতুন শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সহযোগে তোমার মেয়েকে অফিস থেকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তাইতো আমি নিশ্চিন্তে ঘরে থাকি।
শরিক
সুপ্রিয় চক্রবর্তী
একটু হইচই শুনে রাস্তার ওপারে তাকাল সুদীপা। কিছু লোক ধরাধরি করে একজনকে তোলার চেষ্টা করছে। হাতের ব্যাগটা রাস্তায় পড়ে গিয়েছে। কিছু লোক বলছে, সরে যান আপনারা, হাওয়া আসতে দিন। লোকজন সরে যেতেই ওই ব্যক্তির মুখ দেখে সুদীপা চমকে উঠল। জ্যাঠামশাই!
সুদীপার নিজের কম্পিউটার ক্লাস আছে। তারপর কম্পিটিটিভ পরীক্ষার ক্লাস। কিন্তু সুদীপা তবু এগিয়ে গেল। অন্য লোকগুলো সুদীপাকে দেখে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। তারা বলল, ‘আপনি চেনেন? কোথায় থাকেন তিনি? ওঁর মোবাইল কোথায়?’ একজন বলল, ‘এই যে মোবাইল। ওঁর পকেট থেকে পেয়েছি। কিন্তু লক করা। আপনি কি জানেন ওঁর বাড়ির নম্বর?’ সুদীপা কোনও কথার জবাব না দিয়ে ভাবছে তাদের শরিকি ঝামেলার কথা। কত সুন্দর পরিবার ছিল সবাই মিলে। কিন্তু কী এক কুক্ষণে বাড়ি ভাগ হয়ে গেল। এমনকি এখন মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। সুদীপা কী করবে এখন? সুদীপা ভাবল, পুরোনো সম্পর্ক জোড়া লাগাবার এই তো সুযোগ। সে নিজের মাকে আর বাবাকে ফোন করে বলল, ‘এখুনি জেঠিমা আর দাদাকে খবর দাও। জ্যাঠামশাই অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন। তোমরাও চলে এসো।’
The submit অণুগল্প appeared first on Uttarbanga Sambad.
