নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়েদের বেশি রাতে রাস্তায় বেরোতে বারণ করেন অভিভাবকরা। যদিও রাতই তাঁর জীবিকা নির্বাহের সময়। প্রতিদিন রাত দশটা থেকে ভোর পাঁচটা অবধি ভদোদরা শহরে অটো চালান তরুণী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেবল নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই ক্ষান্ত দেননি, পাশাপাশি পারিশ্রমিক ছাড়াই আর্ত সহনাগরিকের পাশে দাঁড়ান তিনি। অসুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে হাসপাতালে পৌঁছে দেন অটোচালক তরুণী। সোশাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তরুণীকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটাগরিকরা।
ইনস্টাগ্রামে লড়াকু তথা পরোপকারী এই তরুণীর কথা জানিয়েছেন সন্যাম গর্গ নামের এক ব্যক্তি। সন্যামের কথায়, “এই ধরনের মানুষদেরই তো পৃথিবীর প্রয়োজন। কেন তাঁদের কথা কেউ বলে না কিংবা তাঁদের গল্পগুলো কেউ তুলে ধরে না? এখন রাত ৩টা বাজে। বাড়ি ফেরার পথে এই অসাধারণ দম্পতির সঙ্গে দেখা।” ঘটনাক্রমে তরুণীর সঙ্গে তাঁর স্বামীও ছিলেন। সন্যাম জানিয়েছেন, তরুণীর স্বামীই আগে অটোরিকশা চালাতেন। পরে তিনি স্ত্রীকে অটো চালানো শেখান। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহিত করেন। দম্পতির দু’টি সন্তানও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তরুণীর সাহসী ও ইতিবাচক মনোভাব দেখে মুগ্ধ সন্যাম। শুধু নিজেই অটো চালাচ্ছেন না, আরও প্রায় ৫০ জন নারীকে অটোরিকশা চালানোয় উৎসাহিত করেছেন। ‘শেরনি’ স্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত স্বামী। সমাজ কি বলবে না ভেবে নারী স্বাধীনতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন যুবক। “রাতবিরেতে অসুস্থকে সাহায্যে বিনামূল্যে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়”। স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করেই অটোতে লিখে রেখেছেন একথা। যা দেখে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটপাড়া। সকলেই বলছেন, মানুষ মানুষের জন্য, বুঝিয়ে দিচ্ছেন ভদোদরার ‘শেরনি’।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
