অঙ্কে গোঁজামিল! জিডিপি-র নম্বর ছেড়ে দেশবাসীর আর্থিক দুরবস্থায় নজর দিক কেন্দ্র

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে অযথা আস্ফালন না করে কেন্দ্রের উচিত দেশবাসীর বর্তমান আর্থিক শোচনীয়তার দিকে দৃত্পাত করা।

জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে আক্ষরিক অর্থেই অস্বস্তিতে ফেলেছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। যুক্তি দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, কেন্দ্র আদতে ‘আর্থিক বৃদ্ধির হার’ বলে যা দেখাচ্ছে- তা বাস্তব নয়।

আরও পড়ুন:

গত ৩১ আগস্ট বর্তমান আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার জানা গিয়েছে। এই হার গত আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। কিন্তু এই তুলনা ধাঁধায় ভরা-দেশের প্রাক্তন অর্থসচিবের অভিযোগ। যখন কোনও বৃদ্ধির হার দেখানো হয় তখন তার একটি তুলনা করার ভিত্তি থাকে; যে ভিত্তির তুলনায় বৃদ্ধিটা দেখানো হয়। জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছর থেকে সরকার ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করেছে। ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তিত হওয়ায় হিসাবের হেরফের হয়েছে বলে প্রাক্তন অর্থসচিবের দাবি।

জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছর থেকে সরকার ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করেছে। ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তিত হওয়ায় হিসাবের হেরফের হয়েছে বলে প্রাক্তন অর্থসচিবের দাবি।

তাঁর দাবি কতটা সঠিক ও যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে সরকার। আবার বিরোধী দল কংগ্রেস ডলারের নিরিখে হিসাব দিয়ে দাবি জানিয়েছে, ভারতের বর্তমান আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি গত আর্থিক বছরের প্রায় সমানই রয়েছে। অর্থাৎ, ডলার দিয়ে তুলনা করলে এক বছরে ভারতের কোনও আর্থিক বৃদ্ধিই ঘটেনি। কংগ্রেসের দাবিকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি আদৌ এগিয়েছে কি না তা সাদা চোখে বোঝার উপায় নেই। ‘আর্থিক বৃদ্ধি’ বলতে যদি সাধারণ মানুষের আয় বাড়া বোঝায় তা হলে নিশ্চিত করেই গত এক বছরে দেশের কোনও আর্থিক বৃদ্ধিই ঘটেনি। গড়পড়তা সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা গত এক বছরে কিছুটা খারাপ হয়েছে বরং। বাজারে যে হারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে তাতে প্রকৃত আয় অধিকাংশ মানুষেরই কমেছে। সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরি-বাকরির অবস্থা খুবই খারাপ। নতুন চাকরি তো নেই-ই, পুরনো চাকরির সুযোগও ক্রমশ বন্ধ হচ্ছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রেও অবস্থা তথৈবচ। বাজারে পণ্যের চাহিদার অভাবে ছোটখাট ব্যবসাগুলো ধুঁকছে।

২০২৬-‘২৭ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ দাবি করে কেন্দ্রের তরফে যতই আস্ফালন করা হোক না কেন সাধারণ মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন অবস্থা দিয়ে বাস্তবটা উপলব্ধি করতে পারছে। কংগ্রেস বলেছে, এই আস্ফালন অনেকটা ২০০৪-এ লোকসভা ভোটের প্রচারে বিজেপির ক্যাচলাইন ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ প্রচারের মতো। সেবার বিজেপির অপ্রত্যাশিত পরাজয় ঘটেছিল। কংগ্রেসের বক্তব্যকে স্বাভাবিকভাবে ‘বিরোধী কুৎসা’ বলে দাবি বিজেপির।

তবুও, ভারতের অর্থনীতি যে দ্রুত এগোচ্ছে, এমন তথ্য কি দেশবাসী আদতে মানতে পারবে? এমনকী উচ্চবিত্তরাও এই প্রশ্নের মুখে ঢোক গিলছে। গত দু’বছর ধরে ভারতের শেয়ারবাজারও মুখ থুবড়ে পড়ে। বিদেশি লগ্নিকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়াতেই এই অবস্থা। সুতরাং জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে হইচই না করে দেশবাসীর রোজকার অভিজ্ঞতাকেই সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *