৫০০ টাকায় ঘর, সস্তার ফাঁদে নিরাপত্তা লাটে! অগ্নিকাণ্ডের পর কর্মীদের ফোনও ধরছেন না হোটেল মালিক

রাজ্য/STATE
Spread the love


শুধু ‘শিখা ইন’ নয়, ঠিক তার উলটো দিকে আরও একটা হোটেল ছিল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের। সেই হোটেলের কর্মীরাই প্রথম দেখেন ‘শিখা ইন’-এ দাউদাউ করে জ্বলছে লেলিহান শিখা। তাঁরাই ঘড়ির কাঁটায় ৩ টে নাগাদ মালিককে ফোন করেন। কিন্তু প্রথমে তিনি ধরেননি। তারপর বন্ধ করে দেন মোবাইল। সেই থেকেই বেপাত্তা বীরেশ্বর।

কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক ছোট হোটেল। একেবারে ঘুপচি ঘর। সরু সিঁড়ি। অধিকাংশেরই ভাড়া ৫০০ টাকার মধ্যে। তাই পকেটের কথা ভেবে আর নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই অনেকেই সেখানে থাকেন। তার পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা বুধবার সকালে ফের দেখল তিলোত্তমা। জানা গিয়েছে, নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে মোট দুটি হোটেল ছিল বেহালার বীরেশ্বর মিত্রের। একটি ‘শিখা ইন’, অন্যটি ‘জাপন’। দুটোই একেবারে ছোট্ট জায়গায়। ‘শিখা ইনে’র একেবারে উলটোদিকেই রয়েছে ‘জাপন’। মঙ্গলবার রাত তিনটে নাগাদ তিনতলা ‘জাপন’-এর কর্মীরাই দেখেন উলটো দিকের হোটেলে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। হোটেল কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান জানান, সঙ্গে সঙ্গে তিনি ফোন করেন মালিক বীরেশ্বরকে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। কিছুক্ষণ পর আবারও ফোন করা হলেও লাভ হয়নি। এদিকে ততক্ষণে বিরাট আকার নিয়েছে আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকল। 

আরও পড়ুন:

হোটেল জাপনের কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান।

ইন্দ্রদেব পাসওয়ান জানান, এরপর থেকেই তাঁর মালিকের ফোন সুইচড অফ। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি বেপাত্তা। এখন তাঁর খোঁজে পুলিশ। ইন্দ্রদেব জানান, তাঁদের হোটেলের নন এসি ঘরের ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এসি ঘর পাওয়া যায় ৮০০ টাকায়। ফলে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বহু মানুষ এই হোটেলে থাকেন। কারণ একটাই, সস্তা। আর পয়সা বাঁচাতে গিয়ে প্রাণের তোয়াক্কা করার কথা কারও ভাবনাতেও আসে না। আর তার পরিণতি কী হতে পারে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ‘শিখা ইন’।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *