সাফল্য নাকি আদর্শ? জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত? পথ দেখাল ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

সাফল্য নাকি আদর্শ? জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত? পথ দেখাল ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


সাফল্য নাকি আদর্শ, কোনটা জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত? আদর্শকে বাদ দিয়ে সাফল্য নাকি আদর্শকে সঙ্গে নিয়ে সাফল্যের জন্য লড়াই, কোনটা সঠিক? দাঁড়িপাল্লার দুইদিকে রাখলে অধিকাংশ মানুষ সাফল্যকে বেছে নেবে। পিছিয়ে পড়বে আদর্শ। অথচ জীবনের প্রথম পাঠ পড়ানো হয় সঠিকভাবে আদর্শকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।

আদর্শ বাল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অবশ্য সাফল্য কিংবা আদর্শ, কোনও কিছু নিয়েই তেমন মাথাব্যথা ছিল না। ভাঙাচোরা সরকারি স্কুল। না আছে শিক্ষকদের শেখানোর উদ্যম আর না আছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উৎসাহ। কিন্তু হেডমাস্টার জ্ঞানেশ্বর ত্রিপাঠী হঠাৎই সেই স্কুলকে দিল্লির সেরা শিক্ষায়তন করার উদ্দেশ্যে লেগে পড়লেন। সেই লক্ষ্যে জুড়ে গেলেন মুকুল স্যার, হংসরাজ স্যার, কাঞ্চন ম্যামের মতো আরও অনেকে। ব্যক্তিগত স্বার্থ অবশ্যই ছিল, তবে তার জন্য লক্ষ্য ছিল কঠিন।

আরও পড়ুন:

চরম অব্যবস্থাপূর্ণ একটা সিস্টেমকে মেরামত করতে গেলে সকলের সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু স্কুলের বোর্ড সদস্য উর্মিলা দেবী এত সহজে স্কুলের ভালো করতে দেবেন না। কারণ তিনি চলেন স্থানীয় এমএলএ গোল্ডি রনধাওয়ার কথায়। হিমাঙ্ক গওর পরিচালিত ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’ ওয়েব সিরিজ প্রত্যেক দর্শককে কিঞ্চিৎ ছোটবেলা উপহার দিয়ে যাবে।

‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

সম্প্রতি বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ দেখা যাচ্ছে যেখানে ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট দুনিয়া নয়, বরং উত্তর ভারতের গ্রাম্য সমাজ বা ছোট টাউনের জীবনযাত্রাকে খুব সাদামাটাভাবে পুরোনো দূরদর্শন ধাঁচের গল্পে তুলে আনা হচ্ছে। ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’ও তেমনই এক মন ভালো করা সিরিজ। মজার কিন্তু মজার নয়, বরং একধরনের সোশ্যাল স্যাটায়ারকে তুলে ধরে এই স্কুলের কাহিনী।

সরকারি স্কুলের করুণ অবস্থা সারা দেশেই একরকম। না আছে কোনও পরিকাঠামো আর না রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে শিক্ষক। তার ওপর নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা বাচ্চাদের কাজের খোঁজে স্কুলছুট হয়ে যাওয়া, সবটাই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তব কতটা করুণ তার ব্যঙ্গ চিত্রকল্প এই সিরিজ।

স্কুলের প্রতিদিনের রোজনামচা, যার মধ্যে মজা আছে, বিরক্তি আছে, রাগ আছে। অভিনব পদ্ধতির দুষ্টুমি আছে, আবার তার শাস্তিও আছে। এই সমস্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলে গল্প। তবে এই ধরনের কাহিনীতে সিনেমা যেখানে দর্শককে ম্যাজিক দেখায় এই সিরিজ সেখানেই তাকে বাস্তবের মাটিতে আছাড় দিয়ে ফেলে। কারণ বাস্তব দুনিয়ায় ম্যাজিক হয় না।

কেমন হল?

এই মুহূর্তে দেশের সেরা অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম কেকে মেনন। স্বাভাবিক দক্ষতায় হেডমাস্টার জ্ঞানেশ্বর ত্রিপাঠী চরিত্রটি তিনি সামলে দিয়েছেন। তবে তাঁর সেরা পারফরম্যান্সের তালিকায় এই সিরিজকে রাখা যাবে না। সামান্য নেগেটিভ শেডের উর্মিলা চরিত্রে অর্চনা পূরণ সিং অনবদ্য। এমএলএর ভূমিকায় দুর্দান্ত দেবেন ভোজানিও। নবীন কস্তুরিয়া ও প্রসন্না বিশ্ত চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন।

নতুন সিরিজ ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

আলাদা করে উল্লেখ্য হংসরাজ স্যারের ভূমিকায় অভিমন্যু সিংয়ের অভিনয়, প্রায় প্রতি বলেই চার ছয়ের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও অজিতেশ গুপ্তা, অন্নপূর্ণা সোনি, প্রাচী শাহ ও স্কুলের বাচ্চাদের ভূমিকায় অভিনয় করা প্রত্যেক অভিনেতাদের অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। শেষটুকু সুন্দর হলেও ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’, তাই পরবর্তী সিজনের অপেক্ষা থাকবে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *