পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হল না। কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল ভাটপাড়ার বাসিন্দা পাপ্পু কুমার রজকের। এর আগে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ভাটপাড়া এলাকারই আর এক শ্রমিক কৃষ্ণ চৌধুরী।
এই বিষয়ে আরও খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকায়। গতকাল তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনে কাজ চলাকালীন আচমকা ভেঙে পড়ে ছাদের অংশ ও লোহার কাঠামো। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন একাধিক শ্রমিক। অন্যান্যদের পাশাপাশি গুরুতর আহত অবস্থায় পাপ্পুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় পাপ্পুর। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশীদের কথায়, অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। কারও সাতে-পাঁচে থাকতেন না। সংসারের অন্যতম রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছাড়া নেমে এসেছে। এই একই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পূর্বাশার বাসিন্দা কৃষ্ণ চৌধুরীরও। তারাতলা বিপর্যয়ে ভাটপাড়ার দুই শ্রমিকের মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, জীবিকার তাগিদেই তাঁরা বিপজ্জনক নির্মাণকাজ করতেন। কিন্তু সেই কর্মস্থলই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিল। দুই পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের তরফে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা পিন্টু সিং-সহ অন্যরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
