রাত ১২ অবধি ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা, সকালে উদ্ধার দেহ! আশিসের পরিণতিতে স্তম্ভিত আত্মীয়-পরিজনেরা

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


রোজ রাতে আড্ডাটা যেন একটা রুটিন ছিল। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পার্টি অফিস থেকে রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্যের মাঝেই উঠে এল আরও এক নতুন তথ্য। পরিবারের দাবি, রাত ১২ পর্যন্ত ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করেছেন আশিস। চোখ-মুখ দেখেও কেউ এতটুকু চিন্তার ছাপ আঁচ করতে পারেননি।

রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃতদেহ! ইতিমধ্যেই এই মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ওই কার্যালয় থেকে হাতে লেখা এক পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশিসের ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো শনিবারও রাত পর্যন্ত একসঙ্গে গল্প করেছেন দু’জনে। তারপর আশিস খেতে যান। ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে দেহ উদ্ধার হল ঝুলন্ত অবস্থায়!

প্রশান্ত বলছেন, “রাতে যতক্ষণ কথা বললাম, এক মুহূর্তের জন্য বুঝতেই পারলাম না এমন কাণ্ড ঘটবে! সকালে এই খবর শুনলাম। বিশ্বাসই করতে পারছি না।” এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন করে আশিস। তিনি বলেন, “কাল সন্ধ্যাবেলাতেও এই অফিসেই বসেছিলেন। প্রতি রাতেই আমাদের আড্ডা হয়। কাল আসিনি বলে কথা হয়নি। অনেকে তো অনেকরকম অপমান করছিল। বাড়ির কোনও অশান্তি বলে মনে হয় না, আত্মসম্মানে ঘা লাগাতেই এমন চরম সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।”

দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। তৃণমূল আমলের দুর্নীতির কোন দাগ লাগেনি তাঁর গায়ে। এ হেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়র মৃত্যুতে চাঞ্চল্য। প্রাথমিক অনুমান, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনায় অবাক রাজনৈতিক সতীর্থরাও। কালীঘাট তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ বলছেন, “সামাজিক কলঙ্কের ভয় মেনে নিতে পারলেন না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” যাঁর কাছে ছাব্বিশের নির্বাচনে হেরে যান আশিস সেই ধ্রুব সাহা বলছেন, “দিনকয়েক আগে দেখা হয়েছিল। এমনটা করবেন কিছু বোঝা যায়নি। পিছনে অনেক কারণ আছে বলে মনে করছি আমরা।” স্থানীয় নেতৃত্ব জানাচ্ছেন তাঁরা অভিভাবক হারালেন।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *