ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লিওনেল মেসি। দু’দশকের বেশি সময় বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করার পর তাঁরা কেরিয়ারের সায়াহ্নে। সম্ভবত দুই তারকাই নামছেন জীবনের শেষ বিশ্বকাপে। ক্লাব ফুটবল কাঁপানো দুই মহাতারকার একজন ইতিমধ্যেই বিশ্বজয়ের স্বাদ পাচ্ছেন। অপরজন অধরা মাধুরীর খোঁজে। তবে গত পাঁচ বিশ্বকাপ পায়ের জাদুতে ভক্তদের মোহিত করেছেন দু’জনই।
এই বিষয়ে আরও খবর
লিও মেসির নামের পাশে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৩টি গোল। গোলের নিরিখে তিনি টপকে সবাইকে টপকে শুধু মিরাস্লোভ ক্লোজের পিছনে। ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড এবারই ভাঙতে চাইবেন তিনি। মেসির ১৩ গোলের পাশাপাশি রয়েছে ৮টি অ্যাসিস্টও। ১০বার ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সঙ্গে জিতেছেন গোটা দুই টুর্নামেন্টের সেরার খেতাব। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও তাঁর পারফরম্যান্স ঈর্ষনীয়। নকআউটে ৬টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, রোনাল্ডো বিশ্বকাপে খেলেছেন ২২টি ম্যাচ। ৮টি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর। একবার ম্যাচের সেরা হয়েছেন। তুলনা করতে গেলে হয়তো রোনাল্ডো খানিকটা পিছিয়ে থাকবেন মেসির থেকে। কিন্তু ফুটবলকে কি শুধু পরিসংখ্যানে বাধা যায়। মেসি তথাকথিত মহাশক্তিধর আর্জেন্টিনার ফুটবলদেবতার মানসপুত্র। তুলনায় রোনাল্ডো-কে শুরুটা করতে হয়েছিল অনেকটা পিছনে থেকে। আজ পর্তুগাল যে বিশ্বফুটবলে এত সমীহ আদায় করেছে-সেটার অনেকখানি কৃতিত্ব রোনাল্ডোর। হ্যাঁ, উসেবিয়ো বা লুইস ফিগোরা নিঃসন্দেহে পর্তুগাল ফুটবলের পতাকাবাহী। কিন্তু কেউই নিজেদের দেশকে বিশ্বফুটবলের ‘জায়ান্ট’ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
মেসি বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছেন আগেরবার। কে বলতে পারে, এবার সেটা রোনাল্ডো পাবেনা না? কে বলতে পারে ‘প্রিয়’ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে যে পরিসংখ্যানগত ফারাক সেটা এবার মুছে ফেলবেন না সিআর সেভেন? অতএব, তুলনা নয়, দুই মহাতারকার ‘লাস্ট ডান্স’ উপভোগ করাটাই শ্রেয়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর

