আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি তুলে রেখেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, তারপর বাবার মৃত্যু– দুইয়ের ধাক্কায় সম্ভবত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলএম১০। এহেন ‘বিদায়’ যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আর্জেন্টিনার ফুটবল। জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসি অবসর নেওয়ার পর তাঁকে বিশেষ সম্মান জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের ফুটবলজীবনকে সম্মান জানিয়ে এবার আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ম্যাচগুলিতে দেখা যাবে বিশেষ ট্রিবিউট।
সপ্তাহান্তে দেশের ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরের ম্যাচেই এক মিনিটের জন্য থামবে খেলা। সেই ‘ব্রেক’ উৎসর্গ করা হবে আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে। এএফএ-র নির্দেশ, পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই ফুটবল, ফুটসল এবং বিচ সকারের ম্যাচে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে এক মিনিট হাততালি দেওয়া হবে মেসির সম্মানে। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেখানে ম্যাচ শুরুর আগেই দেখানো হবে মেসিকে নিয়ে এএফএ-র বিশেষ ভিডিও। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অসংখ্য কীর্তি, ট্রফি জয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত ফিরে ফিরে আসবে বড় পর্দায়। রেফারিদেরও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। ম্যাচের ১০ মিনিটে হুইসেল বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদেরই।
আরও পড়ুন:
OFFICIAL – The AFA has introduced that each one matches throughout males’s and girls’s competitions will cease on the 10-minute mark this weekend, for one minute of applause honoring Lionel #Messi’s profession with the Argentina Nationwide Workforce.
Stadiums with screens can even present an… pic.twitter.com/C1mfCX6gjH
— NALHIE (@nalhie) September 2, 2026
নিজেদের অফিসিয়াল বুলেটিনে এএফএ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহান্তে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সব ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে সম্মান জানানো হবে ৩৯ বছর বয়সি মেসিকে। এমনকী রাত ৯.১৫ মিনিটে কর্দোবায় আর্জেন্টাইন কাপের ম্যাচে ভেলেজ ও বোকা জুনিয়র্সের মুখোমুখি লড়াইতেও থাকবে একই কর্মসূচি। কেন ১০ মিনিট? উত্তরটা মেসির জার্সিতেই লেখা। আর্জেন্টিনা দলের হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর গায়ে ছিল সেই আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি। দেশের হয়ে জার্সিতে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২০৭) এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার (১২৫) রেকর্ড তাঁরই দখলে। তাই ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে তাঁকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, আগস্টের শেষ দিন সোশাল মিডিয়ায় তিনটি হাতে লেখা কাগজ আপলোড করেছিলেন মেসি। সেখানে দীর্ঘ বার্তায় লিখেছিলেন, ‘খুব কষ্টে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কিন্তু বুঝতে পারছি, সময়টা এসে গিয়েছে। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। আমি সবসময় এই জার্সিটার জন্য লড়াই করেছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে ও আর্জেন্টাইন হিসাবে আপনাদের গর্বিত করতে চেয়েছি। সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া কিছু অসাধারণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা এই দলে থাকার যোগ্য।’ সেই সঙ্গে ইন্টার মায়ামি মহাতারকা এটাও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দু’দিন পর অর্থাৎ ২১ জুলাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা ফাইনাল হারার পর অবসর নিয়েছিলেন লিও। তারপর ফিরে এসে ফাইনালিসিমা, দু’বার কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জেতেন। ২০২৬-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে হারতে হয়েছে। তারপর মেসির বাবা প্রয়াত হন। এহেন মেসির জন্য দশম মিনিটে থামবে খেলা। তখন হয়তো গোটা গ্যালারিই একসঙ্গে বলে উঠবে, “লিও, তোমার জন্যই তো এই ১০ মিনিট!”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
