ভেনেজুয়েলা উপকূলে রুশ তেলবাহী জাহাজের দখল নিল মার্কিন ফৌজ, ফিরছে ঠান্ডা লড়াইয়ের আতঙ্ক?

ভেনেজুয়েলা উপকূলে রুশ তেলবাহী জাহাজের দখল নিল মার্কিন ফৌজ, ফিরছে ঠান্ডা লড়াইয়ের আতঙ্ক?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৬০ দশকের কিউবার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে? এই আশঙ্কাই বাড়ছে দক্ষিণ আমেরিকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে। জানা গিয়েছে, ভেনেজুয়েলার কাছে আটলান্টিক সাগরে রুশ তৈলবাহী জাহাজ দখল করেছে মার্কিন ফৌজ। মারিনেরা নামে ওই জাহাজটিকে রক্ষা করার জন্য রুশ নৌবাহিনী মোতায়েন করার চেষ্টা করছিল মস্কো, এমনটাই সূত্রের খবর। তবে রুশ বাহিনী পৌঁছনোর আগেই জাহাজ দখল করে মার্কিন বাহিনী।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ভবনে ঢুকে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ফৌজ। তারপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকাই পরিচালনা করবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিকে। আপাতত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন মাদুরোর দীর্ঘদিনের ডেপুটি ডেলসি রডরিগেজ। জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলা আমেরিকার ‘দ্বাসত্ব’ মেনে নেবে না। কিন্তু লাগাতার মার্কিন হুমকির মুখে পড়ে তিনিও সুর নরম করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েই তিনি কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও জানিয়েছেন।

এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চিন, রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তবেই তেল উত্তোলনে ‘অনুমতি’ দেবে আমেরিকা। এছাড়াও তেল ব্যবসায় শুধু আমেরিকার সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে ভেনেজুয়েলাকে, শর্ত ওয়াশিংটনের। তারপরেই বুধবার রুশ জাহাজ আটক করল মার্কিন ফৌজ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রুশ জাহাজ বেলা ১কে নিষিদ্ধ করে আমেরিকা। পরে ওই জাহাজের নাম মারিনেরা রাখা হয়।

জানা গিয়েছে, ইরান থেকে ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছিল মারিনেরা। কিন্তু মার্কিন ‘জাল’ ভেদ করে ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে পারেনি। ফিরে আসার চেষ্টা করছিল মারিনেরা। কারাকাসে হামলার সময় থেকেই মারিনেরার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল আমেরিকা। সেটা আঁচ করতে পেরেই নৌবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল মস্কোর। তবে রুশ বাহিনী পৌঁছনোর আগেই বুধবার জাহাজের দখল নেয় মার্কিন ফৌজ। সেটা না হলে ভেনেজুয়েলার সৈকতে সম্মুখসমরে দেখা যেত আমেরিকা-রাশিয়াকে।

রাশিয়ার জাতীয় মিডিয়ার তরফে জাহাজ দখলের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন সেনার তরফেও এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়, নিষিদ্ধ হওয়া জাহাজের জেরে পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেই জাহাজটির দখল নেওয়া হয়েছে। তবে এই দেখে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, আবারও বিশ্বজুড়ে শুরু হবে ঠান্ডা লড়াই? ফের যুদ্ধংদেহি মেজাজে ময়দানে নামবে আমেরিকা এবং রাশিয়া? ১৯৬০র দশকে কিউবাকে ঘিরে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকার দ্বৈরথ প্রায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত গড়িয়ে গিয়েছিল। আবারও কি সেই ঠান্ডা লড়াই ফিরবে? 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *